২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

অতিরিক্ত টাকার প্রবাহে যেনো মুদ্রাস্ফীতি দেখা না দেয়

অতিরিক্ত টাকার প্রবাহে যেনো মুদ্রাস্ফীতি দেখা না দেয়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেখা দিতে পারে মুদ্রাস্ফীতি। একে নিয়ন্ত্রণ রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাসের কারণে অনাকাক্সিক্ষত বিভিন্ন খাতে সরকারকে ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীরূপে অবির্ভূত হওয়ায় অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ভয়াবহভাবে চাপের মুখে পড়েছে। স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রেমিট্যান্স আয় ও রপ্তানি হ্রাসের আলামতও।

গত দুই দশকে বারবার বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়লেও এ দেশের অর্থনীতিতে তার চোট লাগেনি। কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বরং এই সময়ে দেশের অর্থনীতি ফুলে-ফেঁপে আরও শ্রীবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সত্যটা হলো এবার, অস্তিত্বের সংগ্রামেও লড়তে হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে, কেবল মন্দার থাবা মোকাবিলার জন্য নয়। যে কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি সপ্তাহেই নতুন ২৫ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়া শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এটাকে তারা নিয়মিত কর্মসূচি বলে অভিহিত করেছে। কেননা প্রতি বছরই ঈদের আগে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হয়। গত বছর ঈদেও ছাড়া হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ মানি থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে আরও ৩৮ হাজার কোটি টাকার জোগান দেবে; যা একেবারেই নতুন টাকা। এর বাইরে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ঘোষিত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে; যার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকাই সরবরাহ করবে ব্যাংকগুলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে মানুষের হাতে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়বে। কভিড-১৯-এর প্রভাবে বিপর্যস্ত অর্থনীতি সামলাতে এ মুহূর্তে নতুন টাকা ছেপে বাজারে ছাড়লে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এমন আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, নতুন টাকায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। কারণ মানুষের হাতে এখন টাকা নেই। এ ছাড়া যে টাকা ছাড়া হবে তা পর্যায়ক্রমে তিন বা চার বছরে আবার বাজার থেকে তুলেও নেওয়া হবে। ফলে নতুন টাকা মূল্যস্ফীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

করোনা ভাইরাসজনিত সংকট মোকাবিলায় আমাদের সরকারপ্রধান অসীম সাহসিকতায় যে লড়াই চালাচ্ছেন তা প্রশংসার দাবিদার। এ ক্ষেত্রে নতুন টাকা ছেপে পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত অপ্রিয় হলেও বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনাযোগ্য। একটা কথা বলে রাখা ভালো, অর্থনীতির মূল চাবি যেনো কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়। যেনো মুদ্রাস্ফীতির কারণ না হয় বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com