মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৫ অপরাহ্ন

অন্ধ কি বুঝিতে পারে আলেম সমাজ কিবা ধন

অন্ধ কি বুঝিতে পারে আলেম সমাজ কিবা ধন

সৈয়দ মবনু : ‘অন্ধ কি বুঝিতে পারে আলেম সমাজ কিবা ধন?’ শীর্ষক আমার লেখাটি ১১ নভেম্বর ২০১৯ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করলে ‘মাহরানা’ নামক ফেসবুক আইডি হোল্ডার প্রথমে প্রশংসা করে বলেন, ‘অজানা ও তথ্য সমৃদ্ধ লেখার জন্য ধন্যবাদ।’ অতঃপর বলেন, ‘তবে একটা বিষয় ক্লিয়ার করলে ভাল হত। বর্তমান উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইমরানের বিরুদ্ধে মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের এ আন্দোলনের কারণটা কি? মিডিয়া থেকে পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে ব্যর্থ।’

আমি ভাই রানার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবো কি না জানি না, কারণ এত দূরত্বে সঠিক পর্যবেক্ষণ না হতেও পারে। আমি মিডিয়া সূত্রে যতটুকু বুঝেছি তা হলো এই আন্দোলনের অনেকগুলো কারণ। এই কারণগুলোকে বড় করে চিহ্নিত করলে প্রথমে জাতীয় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা এবং দ্বিতীয় নিরেট দ্বীনি সমস্যা। জাতীয় রাজনৈতিক সমস্যা হলো ইমরান খান নিয়াজি যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন এই নির্বাচনকে মাওলানা ফজলুর রহমান এবং তার জোট মনে করেন পাতানো খেলার নির্বাচন।

প্রথমদিন থেকেই তারা এই নির্বাচনের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে এসেছেন। অর্থনৈতিক সমস্যা হলো দেশের জিনিষপত্রের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সরকার বড়বড় কথা বলছে, কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাশ্মীর ইস্যুতেও সরকারের অবস্থান হলো কার্যকর কোন পদক্ষেপ নয়, সাউন্ড গ্রেনেট বাজানোর মতো শুধু বক্তিতাবাজি, যার সাথে পাকিস্তানের জনগণ অনেক পূর্ব থেকে-ই পরিচিত।

ইমরান খানের সাথে ধর্মীয় সংঘাত প্রথম শুরু হয় আসিয়া বিবি নামক একজন পাকিস্তানি খ্রিস্টান মহিলা যখন হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে গালি দেয় এবং ব্রেলভী আলেম মাওলানা খাদিম হোসাইন রেজভী প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলনে সমর্থন দেন পাকিস্তান কওমী মাদরাসা বোর্ডের প্রধান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (সামিউর রহমান গ্রুপ)-এর নেতা মাওলানা সামিউর রহমান।

আন্দোলনের মূখে সরকার চুক্তি করলো আসিয়া বিবিকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুুখি করবে, কিন্তু পরে আসিয়া বিবিকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে মাওলানা খাদিম হোসাইন রেজভীকে গ্রেফতার করা হলো এবং কিছুদিন পর মাওলানা সামিউর রহমানকে কে বা কারা শহিদ করে দিলো। দাবী করা হলো, মাওলানা সামিউর রহমানের হত্যাকারিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক, সরকার এখানে অবহেলা দেখায়। মাওলানা সামিউর রহমানের ছেলের দাবী হলো সরকার সঠিকভাবে তদন্ত পরিচালনা করছে না।

পাকিস্তানের সংবিধানে ব্লাসফেমি আইনে যে মৃত্যুদন্ড রয়েছে তা ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর গোপনে বাতিলের বিল পাশ করতে গেলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা আব্দুল গফুর হায়দারী সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করলে তা বাতিল করা বন্ধ হয়। কাদিয়ানিদের সাথে ইমরান খানের অতিরিক্ত মাখামাখিও এখানে অনেককে ক্ষব্ধ করেছে। তা ছাড়া ইমরান খানের মুখ থেকে মাওলানা ফজলুর রহমানকে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন বক্তব্যও তাঁর অনেক ভক্তকে ক্ষুব্ধ করেছে।

লেখক : কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com