১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

অন্ধ বলে আমাকে যেন হেয় হতে না হয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার চোখের আলোর বিনিময়ে এ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার পরিবেশ স্বাভাবিক হোক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, অন্ধ বলে যেন সমাজে আমাকে কোনোদিন হেয় হতে না হয়। আমি নিয়মিত লেখাপড়া করতে ও সম্মানজনক অবস্থান চাই। কারও প্রতি আমার কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা ক্ষোভ নেই। তবে তদন্তে যদি কিছু বেরিয়ে আসে তাহলে সেটা রাষ্ট্রীয় ব্যাপার।  শুক্রবার বিকালে ঢাকায় নেমে সাংবাদিকদের এসব বলেন তিনি।

ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরেছেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এদিন বিকাল পৌনে ৫টায় সাংবাদিকদের সামনে আসেন দৃষ্টিশক্তি হারানো এই তরুণ।

সিদ্দিকুর পৌঁছানোর আগে তার বন্ধুরা জড়ো হন বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এর নিচে ক্যানোপি ১-এর সামনে। তারা সবাই চোখ বেঁধেছিলেন কালো কাপড়ে। বন্ধুদের মধ্যে শাহ আলী, শেখ ফরিদসহ অন্যরা বলেন, আমাদের এই কালো কাপড় শিক্ষাব্যবস্থার অন্ধত্বের প্রতীক। কেবল সিদ্দিকুর নয়, আমরা পুরো জাতি আজ অন্ধ, শিক্ষাব্যবস্থাও অন্ধ। আমরা আমাদের দাবি পূরণ করতে এসে অন্ধত্বকে বরণ করে নিলাম। আমাদের চোখে কালো কাপড় বাঁধা প্রতীকী অন্ধত্ব। এর মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চাই, রাষ্ট্রও অন্ধ। শিক্ষাব্যবস্থা অন্ধ।

পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া নতুন সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান।

শুক্রবার বিমানবন্দরের সামনে সিদ্দিকুরের বন্ধুরা বলেন, ইতোমধ্যে এ ঘটনায় সাত জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। সিদ্দিকুর কি তার চোখের বিনিময়ে কারও শাস্তি দাবি করতে পারে না? এ প্রশ্ন রইলো রাষ্ট্রের কাছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com