শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটনভূমি কক্সবাজার

অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটনভূমি কক্সবাজার

শেখ কুতুবুদ্দিন  : কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও ছোটো-বড়ো ২১টি দ্বীপ নিয়ে অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটনভূমি কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম এ সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিদেশ থেকে কোনো পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এলে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রথমেই কক্সবাজারকে পছন্দ করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বা গ্রাম পর্যায় থেকেও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সারাবছর পরিবার, পরিজন স্বজন ও সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। পর্যটনখাত থেকে বাংলাদেশ যা আয় করে, তার অধিকাংশই আসে কক্সবাজার থেকে।

ভৌগোলিক দিক থেকে কক্সবাজারের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে। পশ্চিম-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত, পূর্বের কিছু অংশ মায়ানমার সীমান্তে পাহাড় এবং অবশিষ্ট অংশ নাফ নদী মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান রাজ্য থেকে বাংলাদেশকে পৃথক করেছে। কক্সবাজারের চর্তুদিকে সাগর, নদী এবং পাহাড়। এ জেলার বিভিন্ন অংশ সমতলভূমি ও উচুঁনিচু পাহাড় কক্সবাজারকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ি, ধলঘাট দ্বীপ, স্বপ্নের দ্বীপ সোনাদিয়া প্রবালদ্বীপ ও সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক সোন্দর্য দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। টেকনাফ থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মূল ভুখন্ডের সাথে লাগোয়া শাহপরীর দ্বীপ এবং এর পরে প্রায় আরও ১৫ কিলোমিটার দূরে সেন্ট মার্টিনের দিকে ১টি বিরাট দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে ভেসে ওঠেছে। এছাড়াও নাফনদীতে রয়েছে ছোটো-বড়ো ৬টি দ্বীপ। সেন্ট মার্টিনের ছেড়াদিয়া ও মাঝেরদিয়াসহ ২১টি দ্বীপ মিলে কক্সবাজার হয়ে ওঠেছে অনাবিল সৌন্দর্য এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশাল এক সম্ভাবনাময় স্থান। হিমছড়ি, ইনানী বিচ, লাবনী বিচ ছাড়াও জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে শহরের বৌদ্ধ মন্দির, ডুলাহাজরার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের মাখিনের কূপ, রামুর রামকোট ও নারিকেল বাগান, রাবার বাগান, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, রামু উপজেলার নাইক্ষংছড়ি লেক।

মাছ, গাছ ও লবণের মতো অফুরন্ত সম্পদের সাথে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং আজকের দিনে পর্যটন শিল্প কক্সবাজারকে করে তুলেছে বিশ্ববাসীর কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। কক্সবাজারের এই আকর্ষণে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি লক্ষ লক্ষ পর্যটকের আগমনে চাঙ্গা হয়েছে কক্সবাজারের ব্যবসাবাণিজ্য, যোগাযোগসহ সার্বিক অবস্থা। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়াও সরকার ঘোষিত বন্ধের দিনে সমুদ্র সৈকতসহ গোটা পর্যটন এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। পর্যটন-এর ওপর ভিত্তি করে কক্সবাজার শহর এলাকাসহ গোটা পর্যটন এলাকাগুলোতে সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে পর্যটকদের সুযোগসুবিধার জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গড়ে ওঠেছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, টি-স্টল, বিশ্রামাগার, বিভিন্ন রকম ছাতা-চেয়ারসহ নানাবিধ সুযোগসুবিধা।

এছাড়াও পর্যটকদের গাইড করে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ট্যুরিস্ট গাইড প্রতিষ্ঠান। এসব কারণে কক্সবাজারের হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ব্যবসা করে তেমনি পর্যটকদের কারণে স্থানীয় বেকার শিক্ষিত অশিক্ষিত সকলের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে কমছে বেকারত্ব, বেড়েছে কর্মসংস্থান। পর্যটন কক্সবাজারবাসীর ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

শীত মৌসুমে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত শুধু দেশেই নয়, পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত। সবসময় পর্যটকে মুখরিত থাকে এ সমুদ্রসৈকত। কক্সবাজারে অবস্থানকালীন পর্যটকগণ সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ, নোনাজলে অবগাহন, সূর্যাস্ত অবলোকন করার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যতম কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ, মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির দর্শন, চকোরিয়া সাফারী পার্কের শিশু বিনোদন কেন্দ্র উপভোগ, সোনাদিয়া দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ, কুতুবদিয়া পাড়ার শুটকিমহল দর্শন, মেরিন ড্রাইভ পরিভ্রমণ, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মৎস্য শিকার, বাঁকখালি নদীর দু’পাড়ের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের আগমন বদলে দিয়েছে কক্সবাজারবাসীর ভাগ্য। কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকাশে আন্তরিক উদ্যোগ নিলে সমগ্র কক্সবাজার হতে পারে বিশাল সম্ভাবনাময় এক পর্যটন জোন। শুধু কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করে এ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর আয় করতে পারে হাজার কোটি টাকা।

কক্সবাজার বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ অপার সম্ভাবনাময় এলাকাকে আমাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে যেসব অন্তরায় আছে, তা চিহ্নিত করে নিরসনকল্পে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য কক্সবাজারকে ঘিরে বিশেষ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে দিতে হবে অগ্রাধিকার।

লেখক : কলামিস্ট

২৪.০৭.২০১৯

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com