২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

অসহনীয় পর্যায়ে চালের দাম

অসহনীয় পর্যায়ে চালের দাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দ্বিতীয় দফায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করেছে ভারত থেকে আমদানি করা চাল। দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ চাল আনা হলেও প্রথম চালানটি রবিবার ছাড় হয়নি। চালের আমদানি শুল্কহার কমানোর বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছে হিলি স্থলবন্দর সূত্র। বন্দর দিয়ে দেড় বছর পর প্রথম চালানে ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়েছে।

রবিবার এই বন্দর দিয়ে ২০টি ট্রাকে এসেছে আরও ৮২৮ টন চাল। এর আমদানিকারক জয়পুরহাটের পাঁচবিবির হেনা এন্ট্রারপ্রাইজ।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে মোট ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আগে এই শুল্ক ছিল ৬২.৫ শতাংশ।

আমদানিকৃত চালের কার্য সম্পাদনকারী হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শেরেগুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম বলেন, তার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওগাঁর মেসার্স জগদিশ চন্দ্র রায় খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। তার মধ্যে শনিবার প্রথমবারের মতো ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি করেছেন। ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মারুতি ইন্টারন্যাশনাল এই চালগুলো রফতানি করছেন। প্রতি মেট্রিক টন চাল ৩৫৬ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে। তবে চাল আমদানিতে সরকার ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে বর্তমানে ১৫ ভাগ করেছে। এর গেজেট পেলেও কাস্টমসের সার্ভারে চালের আমদানি শুল্ক কমার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সংযুক্ত হয়নি। এ কারণে আমদানিকৃত চাল ছাড় নেওয়ার জন্য কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে পারিনি। আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে রেখেছি। কাস্টমসের সার্ভারে বিষয়টি সংযুক্ত হলেই ছাড় করার কাজ সম্পন্ন হবে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম চালের পরিবর্তিত শুল্কহারটি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহারের বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত চাল ছাড় নিতে পারেনি। তবে রাতেই পেঁয়াজের শুল্কহার বাড়ার বিষয়টি সার্ভারে সংযুক্ত হয়েছে। এটি আজকালের মধ্যে সংযুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে, ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে হিলির বাজারে ধান-চালের দাম সামান্য কমেছে। প্রসঙ্গত সরকার দেশের ১৪২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহবুবুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রবিবার ৬৪টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত ৬ জানুয়ারি ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টন, ৫ জানুয়ারি ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ২ লাখ টন ও ৩ জানুয়ারি এক লাখ ৫ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, লাগামহীন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। পরবর্তীতে সরকার আমদানি করা চালের শুল্কহার আরও ১০ শতাংশ কমিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। চাল আমদানিতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ জানুয়ারি।

এদিকে কেজিতে দশ টাকা বেড়ে গত দুই দিনে কমেছে মাত্র দুই টাকা। এখনও অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে চালের দাম। কবে নাগাদ আগের অবস্থানে আসবে বা আদৌ আসবে কিনা তা জানেন না কেউই। গত তিন-চার মাস ধরে ক্রমাগত বাজারে বেড়েছে চালের দাম। বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে আমদানির অনুমতি দিয়েও উদ্দেশ্য সফল হয়নি। পরবর্তীতে আমদানি উৎসাহিত করতে শুল্ক কমিয়েও চালের বাজার সহনীয় করা যায়নি। সরকার ভারতের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি করছে। সেই চাল বাজারে আসতেও শুরু করেছে। কিন্তু চালের বাজার দর এখনও তেমন নামছে না।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com