বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

আইনজীবী ফোরাম নিয়ে বিএনপির গৃহদাহ চরমে

আইনজীবী ফোরাম নিয়ে বিএনপির গৃহদাহ চরমে

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কোন্দলে বিএনপিতেও গৃহদাহ শুরু হয়েছে। কোনোভাবেই থামছে না এই অন্তর্দ্বন্দ্ব। দীর্ঘ নয় বছর পর গত ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে সদস্য সচিব করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১৭৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করে দিয়েছে বিএনপি।

আহ্বায়ক খন্দকার মাহবুব হোসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির চারবারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। সদস্য সচিব ফজলুর রহমান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করে তিন সদস্যের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে দেন। এরপর দীর্ঘ নয় বছরেও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হয়নি। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘসময় ধরে নিষ্ক্রিয়। সানাউল্লাহ মিয়াও গুরুতর অসুস্থ। গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনিও একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

২০১০ সালে গঠিত কমিটির কোনো কার্যক্রম না থাকায় সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন ঠিক মতো করতে পারেনি- এমন অভিযোগ বিএনপিপন্থী অনেক আইনজীবীর।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একাধিক আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, শুধু গুটিকয়েক আইনজীবীর একক কর্তৃত্বের কারণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাদের কোনো ভূমিকা না থাকায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাংগঠনিক কোনো ঐক্য এবং দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় সাধারণ নেতাকর্মীরা অসহায়ত্ব বোধ করছেন।

কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয় করা হয়নি। তবে, অনেকেই কমিটিকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, বিগত দিনে ফোরামের কিছু নেতা ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে প্রতিটি বারে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করে পুরো ফোরাম অকার্যকর করে রাখেন।

তারা বলেন, প্রতি বছর সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের আগে দলের নেতারা একজোট হয়ে নির্বাচন করেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ফোরামের নতুন কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয় না। দীর্ঘ নয় বছরেও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিকে আর পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। এ কমিটির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। কার্যত এখন এক সদস্যের কমিটি দিয়ে এ ফোরামের কার্যক্রম চলছে।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করে ৯০০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউনিটের এ কমিটিতে কার কোন পদ, তা কেউ জানেন না। অনেকে বলছেন, কমিটিতে ২০০ জনের মতো নেতাকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থার কারণে সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচিতেই আইনজীবীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না।

আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়া সদস্যদের উদ্দেশ্যে গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল বলেন, এটা তো অস্থায়ী একটি কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য এটি করা হয়েছে। সেখানে ত্যাগী ও নির্যাতিতদের মূল্যায়ন করা হবে। তাদের নিয়ে একটা ডাইনামিক কমিটি করা হবে। আইনজীবী ফোরামের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ দেশের সকল বিভাগের জেলায় যাচ্ছেন। এটা সংগঠনের জন্য পজিটিভ দিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com