১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

আতিয়া মহল এখন ভুতুড়ে বাড়ি

সিলেট প্রতিনিধি ● সিলেটের শিববাড়ির অভিশপ্ত বাড়ি আতিয়া মহল। জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে দেশজুড়ে আলোচিত এ মহলের নাম। এক নামেই এ ভবনকে চিনেন সবাই। এ আতিয়া মহলেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে টানা চার দিন অভিযান চালিয়েছিল সেনাবাহিনীর কমান্ডো টিম। এই আতিয়া মহলকে নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই সিলেটে। ইতিমধ্যে আতিয়া মহল মালিক উস্তার আলীর কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। মালিকের কাছে হস্তান্তরের পর জঙ্গি অভিযানের সময় বাইরে থাকা ভাড়াটিয়া এসে সব মালপত্র নিয়ে গেছেন। আর তারা আতিয়া মহলের বাসিন্দা হতে চান না। ওদিকে, আতিয়া মহল এখন দর্শনীয় ভবন হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই সিলেটসহ দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আতিয়া মহল দেখতে আসেন। পরিদর্শনে যায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এত বড় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর আতিয়া মহল এখন পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়ি। কোনো বাসিন্দা নেই আতিয়া মহলে। সুনসান নীরব-নিস্তব্ধ পুরো বাড়ি।

আতিয়া মহল সিলেট নগরীর শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত। সিলেটের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সাবেক সরকারি কর্মচারী উস্তার আলী প্রায় ৬ বছর আগে নির্মাণ করেছিলেন এ বাড়ি। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী বন্দরঘাট এলাকায়। তিনি শিববাড়ির শিবমন্দিরের পাশের ডোবা প্রকৃতির জায়গায় পাশাপাশি দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এর দুটি ভবনের নামই হচ্ছে আতিয়া মহল। এরমধ্যে পাঠানপাড়া সড়কের পাশঘেষা যে ভবনটি রয়েছে সেটি হচ্ছে ৪ তলা। আর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছিল ৫ তলা ভবন। ওই ৫ তলা ভবনের নিচতলার বাম পাশের কর্নারের ফ্ল্যাটে গত জানুয়ারি মাসে বাসাভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। মর্জিনা নামের এক মহিলা ও কাউছার নামের এক পুরুষ নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। প্রায় ৩০টি ফ্ল্যাটের ওই বাসাটিতেই যে জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছে সেটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ভবনের শতাধিক বাসিন্দা। ঘটনার পর যখন ভাড়াটিয়ারা বাড়ি ফিরেছিল, তখন তারা জানিয়েছিল- ওই ফ্ল্যাটে বসবাসের সময় মহিলা বোরকা পরেই বাজার করতে বের হতো। মাঝেমধ্যে ওই মহিলা কেবল মহিলাদের সঙ্গেই কথা বলতো।

তবে কখনো তারা মহিলার মুখ দেখতে পারেননি। আতিয়া মহলের বাসিন্দা ছিলেন বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। ছিল পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বসবাসও। কিন্তু তারাও কোনো দিন জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেননি। আতিয়া মহলের জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিল ঢাকার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। ২৩ মার্চ মধ্যরাতের পর থেকে আতিয়া ভবনে শুরু হয় রুদ্ধশাস অবস্থা। এরপর জঙ্গিদের অবস্থান সনাক্তের পর সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোর দলের সদস্যরা ২৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ বিকাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে আতিয়া ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে থাকা ৪ জঙ্গিই মারা যায়। মারা যাওয়া জঙ্গিদের মধ্যে একজন মহিলা ছিল। পরবর্তীকালে র‌্যাবের বোম নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ৪ঠা এপ্রিল থেকে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ভবনকে নিরাপদ করে পুলিশের কাছে আতিয়া ভবন হস্তান্তর করে। পুলিশ ১০ এপ্রিল আতিয়া ভবনের মালিক উস্তার আলীর কাছে ভবনটি হস্তান্তর করে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com