মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

আমার লেখনির বিষয় হোক কেবলই দেওবন্দ

মনে চায় দেওবন্দ নিয়ে শুধু লিখতে থাকি

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আমার মনে চায়, দেওবন্দকে নিয়ে শুধু লিখতে থাকি। শুধু লেখা আর লেখা। কলম কিনব আর লিখতে থাকব। দেওবন্দকে নিয়েই সবচেয়ে বেশী লিখতে ইচ্ছে জাগে। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা, অধ্যায়ের পর অধ্যায়, পাণ্ডুলিপির পর পাণ্ডুলিপি, বইয়ের পর বই শুধু লিখে যাই।
অন্য কোন বিষয় নিয়ে এত স্বাদ জাগে না লিখতে। দেওবন্দ নিয়ে, দেওবন্দের ঐতিহ্য অবদান নিয়ে, ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান নিয়েই বেশী লেখার স্বপ্ন জাগে, ইচ্ছে জাগে।

আমি কেন যেন, দেওবন্দের উপরে কোন লিখনী, ওলামায়ে দেওবন্দের স্মৃতি চারণমূলক কোন নিবন্ধ- প্রবন্ধ পড়তে ভুল করি না। দারুল উলূমের ইতিহাস ঐতিহ্যের কোন লেখাকে না পড়ে থাকতে পারি না।

অনেক আগের থেকে এ অভ্যাস। তবে দেওবন্দে পড়া- লেখার পরে যেন জযবাটা আরো বেড়েছে। প্রতিটা ক্ষণ যেন দেওবন্দ নিয়ে গবেষণ করি। ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরি জাতির সামনে। এ জাতির কর্ণকুহরে পৌঁছে দিই ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান।

সত্যি আমার গা যেন শিহরিত হয় দেওবন্দের কথা শুনলে। শরীরের পশমগুলো খাড়া হয় ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান নিয়ে কথা বললে।

ওলামায়ে দেওবন্দের ঐতিহ্য-অবদান ভুলবার নয়। এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য ওলামায়ে দেওবন্দ যে সংগ্রাম করেছেন, এ জাতিকে যা উপহার দিয়েছেন, তা ভুলে গেলে আমরা অকৃতঘ্ন হব।

প্রথমত : ওলামায়ে দেওবন্দের স্বাধীনতার আন্দোলন। যে আন্দোলনের ফলে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে এ জাতি। লাহোর থেকে কামরুখ পর্যন্ত শত শত বছর ধরে জুলুম চালানো ইংরেজ শাসনকে পরাস্ত করে ছিল ওলামায়ে দেওবন্দ। হাজার হাজার আলেমের লাশ গাছে ঝুলেছিল, এদেশের স্বাধীনতার জন্য, ইংরেজ বাহিনীর দুঃশাসন থেকে বাঁচার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন আলেম সমাজ।

আলেমদের আন্দোলন দমন করার জন্য এমন কিছু বাকি ছিল না ইংরেজরা করেনি। সব ধরনের জুলুমের খড়গ চাপিয়ে ছিল তারা। তবুও ওলামায়ে দেওবন্দ দমে থাকেন নি। এগিয়ে ছিলেন সম্মুখে। দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত, এদেশ থেকে ইংরেজ শাসন বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আলেমগন সংগ্রাম করেছিলেন।

কত যে আলেম- উলামাকে জেল খানায় যেতে হয়েছিল, তার হিসেব নেই। হাজার হাজার মাইল দুরের সেই কালা পানি, মাল্টার জেল খানায় বন্দী রাখা হয়েছিল আলেমদের।

বিশেষ করে শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, ও তাঁর প্রিয় শাগরেদ, শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানীর মাল্টার জেল খানার নির্মম ইতিহাস আজো জাতির সামনে জ্বল জ্বল করছে। কত জুলুম আর নির্যাতন সহ্য করে ছিলেন তাঁরা। দেশ মাতৃকার টানে স্বজনদের ত্যাগ করে, সকল আরাম- আয়েশ ছেড়ে বৃটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে ছিলেন।

ওলামায়ে দেওবন্দের সে অবদান কোন দিন ভোলার নয়। ভোলা যাবেনা তাদের ত্যাগের কথা।

১৮৬৬ সনে ভারতের উত্তর প্রদেশে দেওবন্দ নামক স্হানে দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শাখা- প্রশাখা ছড়াতে থাকে এ উপমহাদেশের সর্বত্র। দ্বীনি তালিমের পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামে মনোনিবেশ করেন ওলামায়ে কেরাম।

দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্টার মাকসাদ ছিল তো এটাই, ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে চলে যাওয়া দ্বীনি শিক্ষাকে বাঁচানো, সেই সাথে ইংরেজ বেনিয়াদের হাত থেকে এদেশকে রক্ষা করা।

তাইতো দারুল উলুম দেওবন্দ ছিল ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের দুর্গ। স্বাধীনতা আন্দোলন দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে সৃষ্টি এবং আলেমগণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর তাদের অক্লান্ত শ্রম এবং একনিষ্ঠতার সাথে সংগ্রামে পরাস্ত হয়ে ছিল বৃটিশ বাহিনী।

দ্বিতীয়ত : ওলামায়ে দেওবন্দ কখনো বসে থাকেন নি। দারুল উলূম থেকে চিন্তা- চেতনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন সর্বত্র।

উপমহাদেশসহ এখন বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছে দেওবন্দের সন্তানেরা। বিশ্বের যে প্রান্তে যাবেন, সেখানেই দেওবন্দের আওলাদ- ফরজন্দ। সারা বিশ্বের সকল জায়গায় ওলামায়ে দেওবন্দের সন্তানেরা জাতির খেদমত করে যাচ্ছে।

বিশ্বের সকল দেশে এখন দেওবন্দের শাখা। মুসলিমদের সভ্যতা সংস্কৃতিতে দেওবন্দের অবদান। দ্বীনি শিক্ষার মশাল জ্বলে উঠেছে বিশ্বময়। সর্বত্র যে ইলম চর্চা হচ্ছে, তাতে ওলামায়ে দেওবন্দের বড় অবদান রয়েছে।

এজন্য মনে চায় শুধু দেওবন্দ নিয়ে লিখে যাই। শুধু লিখতে থাকি। আমার কলম চলতে থাকুক দেওবন্দের ঐতিহ্য অবদানের কথা লেখার মাধ্যমে।
হে দয়াময় আল্লাহ! তুমি শক্তি দাও। ওলামায়ে দেওবন্দ কে তুমি কবুল কর। তাদের অবদান, খেদমত মঞ্জুর কর। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com