১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

আল্লামা মাসঊদের চিকিৎসাসফর ও কিছুকথা

যারওয়াত উদ্দীন সামনুন  : আমাদের অনলাইনজীবী তরুণরা যেহেতু সুস্থকে অসুস্থ আর অসুস্থকে মৃত বানিয়ে ফেলতে পারঙ্গম, তাই এই পোস্টের অবতারণা। আগামীকাল [বৃহস্পতিবার] মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত যাচ্ছেন ইন-শা-আল্লাহ্।

প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে একদিন তার হার্টএট্যাক হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পরে যার মাঝে একটি ১০০%। পরে তিনি বলেছিলেন, মাঝে মধ্যে বুকে চাপ অনুভব হতো কিন্তু সেটা কে তিনি গ্যাস্ট্রিক থেকে সৃষ্ট ভেবে পাত্তা দিতেন না।

পৃথিবীর ইতিহাসে কর্মময় ত্যাগী জীবন যাপন করা প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিই এই হার না মানা মনোভাব পোষণ করেন। জীবনের আর সব সমস্যা যেভাবে মাথা উঁচু করে মোকাবেলা করেন, অসুস্থতাকেও একই ভাবে প্রতিহত করতে চান।

এরই মাঝে আবারো তার শরীর খারাপ করে এবং সে যাত্রায় সপ্তাহখানেক হাসপাতালে কাটাতে হয়।

এরপর থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল ক্রমাগত অনুরোধ-অনুযোগের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন তাঁর উপর যেন তিনি এই অসুস্থতা নিরাময়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ওষুধ? সে তো হার্টের রোগীর জন্য সন্ধিচুক্তি মাত্র।

বছর খানেক আগে হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আস’আদ মাদানী দা.বা. বাংলাদেশে এলে তিনি এনিয়ে অত্যন্ত জোড়াল ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং তাঁর শ্রদ্ধায় ভালবাসায় তিনি নতিস্বীকার করেন।

অতঃপর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে একের পর এক কাজের চাপ ও বিদেশ যাত্রায় কালক্ষেপণ হতে থাকে।

সর্বশেষ হজ্জ থেকে ফিরে তাঁর শরীর প্রচণ্ড খারাপ করে…

১০০% ব্লক নিয়েও তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর স্রেফ আল্লাহ্‌ তা’আলার অপার করুণায় কাটিয়ে দিতে পেরেছেন। ‘ন্যাচারাল বাইপাস’ বলে একটি ব্যাপার ঘটে মানব দেহে, যেটা হল কুদরতী ভাবে ব্লকড হার্টে রগ তৈরী হয়ে রক্ত সঞ্চালনের পথ তৈরী হয়ে যায়। এটা খুবই কম পাওয়া যায় এবং তাঁর ক্ষেত্রে আলহামদুলিল্লাহ্‌ এটাই ঘটেছে। কিন্তু শত হলেও বিকল্প কোন ব্যবস্থা কখনোই মূলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না…

ভারতে তাঁর চিকিৎসার পুরো দায়িত্বভার আলহামদুলিল্লাহ্‌ হযরত মাওলানা মাহমুদ মাদানী দা.বা. গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে একজন লোকও নিয়োগ করেছেন যিনি সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে থাকবেন ইন-শা-আল্লাহ্।

পুরোটা সময় বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করলেও এখন তাঁকে বাইরে যেতে হচ্ছে। কারণ তাঁর চিকিৎসক বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁর অপারেশন করতে রাজি নন।

তিনি পরামর্শ দেন ওষুধের উপর চলে পরিপূর্ণ অবসর জীবন যাপন করতে। অথচ শাইখুল হাদীস মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. চান জীবনের শেষ কাল পর্যন্ত হাদীসের খিদমতে নিয়োজিত থাকতে…

আল্লাহ্‌ তা’আলা তার এই চাওয়াকে পূরণ করুন ও পরিপূর্ণ সুস্থতার সাথে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুন। আমীন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com