সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

ইজ্জত-সন্মান দেওয়ার মালিক তিনিই আল্লাহ

ইজ্জত-সন্মান দেওয়ার মালিক তিনিই আল্লাহ

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : দিনে দিনে আরো বেশী সন্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠছেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। ইজ্জতের মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি যাকে ইজ্জত দেন, কেউ আর ঠেকাতে পারে না।

কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে, ” ওয়াতু ইজ্জু মানতাশা ওয়াতুজিল্লু মানতাশা”

তিনি আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ইজ্জত দান করেন, আবার যাকে খুশি তাকে বেইজ্জতি করেন।

আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ একটি নাম। যিনি আমাদের বাংলাদেশের শীর্ষ স্হানীয় আলেমদের মধ্যে একজন। তুখোড় মেধার অধিকারী। সেই ছাত্র জীবন থেকে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে এ যাবত যত মেধাবী মুখ বেরিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।
অত্যান্ত বিনয়ী নম্রতা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেন সব সময়। হকের পতাকা বাহী একজন নিষ্ঠাবান সৈনিক। হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল – অবিচল তিনি। ঝড়-ঝঞ্জা যতই আসুক, তিনি কিন্তু ইস্পাতের ন্যায় দৃঢ় থাকেন।

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে তিনি অত্যান্ত প্রিয়। এখন এক নামেই পরিচিত হচ্ছেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে ছুটে গেছেন বহুবার। বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধান এবং রাষ্ট্রের কর্ণধর দের কাছে শান্তির বাণী পৌছে দিয়েছেন। আর একারণে আল্লামা মাসঊদের গ্রহণযোগ্যতা আরো বেশী বেড়েছে। আরো বেশী সন্মানিত হয়েছেন তিনি।

বর্তমানে হজ্জের সফরে তিনি। বাংলাদেশের শীর্ষ স্হানীয় আলেমদের কাফেলায় তিনি হজ্জব্রত পালন করেছেন।

এই সফরে মক্কা শরীফের মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম সাহেবের সাথে তিনি সাক্ষাত করেন। এর আগেও বহুবার আল্লামা মাসঊদ সাহেব, কাবার ইমামের সাথে সাক্ষাত করেছেন। এমনকি খানায়ে কাবার ইমাম সাহেব, কাবা অভ্যান্তরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল।

এবারের হজ্জের সফরেও আল্লামা মাসঊদ এর সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন খানায়ে কাবার ইমাম সাহেব।

মক্কায় হজ্জব্রত পালনের পর আল্লামা মাসঊদ সাহেব যখন মদিনায় গেলেন, সেখানেও বিশেষ ভাবে সন্মানিত হলেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ সাহেব মসজিদে নববীতে রওজার পাশে হাদীসে মুসালসালাতের দরস দিলেন।

একজন বাংলাদেশী আলেমের জন্য এক বিশাল মর্যাদার বিষয় এটা। আল্লামা মাসঊদ সাহেব সেই মহান কাজটি করলেন।

আল্লামা মাসঊদ একজন খ্যাতিমান মুহাদ্দিস, শায়খুল হাদীস। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর থেকে তিনি হাদীসের দরস দিয়ে থাকেন। এবার দেশের বাইরে মদীনার মসজিদে নববীতে রওজার পাশে হাদীসের দরস দিলেন। বড় সৌভাগ্যবান তিনি। সেই সাথে আমরা গর্বিত। আমাদের দেশের একজন আলেম, তিনি অনেক বড় খেদমতের অধিকারী হলেন, বড় ইজ্জত ওয়ালা হলেন তিনি।

এভাবে দেশ বিদেশের সব জায়গাতে আল্লামা মাসঊদ সন্মানিত হচ্ছেন। তাঁর খেদমতের পরিসীমা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানব কল্যান সহ বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর খেদমত।

শুধু মসজিদ আর মাদ্রাসার মধ্যে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেন নি কখনো। মাদ্রাসায় হাদীসের খেদমতের পাশাপাশি মানব কল্যাণের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন সব সময়। জাতির মুক্তি, আলেম সমাজ কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ফিকির তাঁর।

এক সময় এই বাংলাদেশের মানুষকে জালিমের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। সেটা তো সেই ১৯৭১ সনের কথা। স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিলেন তিনি।

এখনো তিনি সত্য সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। বিশেষ করে আলেম সমাজ কে এক অভিন্ন প্লাট- ফরমে নেওয়ার কোশেশ করেন সর্বদা। এ প্রচেষ্টায় সফলতার মুখ দেখতে পেয়েছেন তিনি।

আল্লামা মাসউদের চতুর্মুখি খেদমত, দেশ- বিদেশের সব জায়গাতে তাঁর খেদমতের ছোঁয়ায় তিনি আরো সন্মানিত।

পরিশেষে আল্লামা মাসউদ সাহেবের জন্য দুআ রইল। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আরো সন্মানিত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com