২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

ইতিবাচক সুষমা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● এত দিন আমরা জেনে এসেছি রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারত বাংলাদেশের পাশে নেই। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরে এসে সেই ভুলটি ভেঙে দিলেন। সুষমা বললেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেই হবে মিয়ানমারকে। বাক্যে ই-প্রত্যয় যোগ করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনের মতো ভারত বাংলাদেশের কতটা অকৃত্রিম বন্ধু।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ‘রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে।’ তবে সুষমা স্বরাজ তার সম্পূর্ণ কথামালায় সরাসরি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিকে ব্যবহার না করে শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের শাস্তির কথাও বলেছেন তিনি।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উদ্বেগ প্রকাশকালে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আরো বলেছেন, বিশাল সংখ্যার এই শরণার্থী প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা। বাংলাদেশ কত দিন এই ভার বহন করবে। এর একটি স্থায়ী সমাধান হতে হবে। আমরা চাই নিরাপদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে সেখানে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রাখাইন এলাকায় অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। এই অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতও সহায়তা দিতে আগ্রহী। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন দেখতে চায় ভারত।

আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা বিষয়ে ভারতের মনোভাব আগের চেয়ে অনেকটা নমনীয়। বিশেষ করে এই ইস্যুতে ভারতের মতো একটি দেশকে পাশে পাওয়াটা আমাদের জন্য ইতিবাচক তো বটেই, পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এই সফলতার পুরস্কার সরকার পেতেই পারে। তাদের সাধুবাদ। পাশাপাশি সাবধান ও সতর্ক থাকাটাও জরুরি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান যে সহজ হবে না, ইতোমধ্যেই তার আভাস আমরা পেয়েছি। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে থাকতে হবে নিরঙ্কুশ সতর্কতা। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম নয়। যেকোনো সময় সন্ত্রাসের ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। আর এ জন্য ভ্যাকসিনসহ সবসময় প্রস্তুত থাকাটা আমাদের জন্য জরুরি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com