২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা সফর, ১৪৪২ হিজরী

ইসরাইল আমিরাত শান্তি চুক্তি মুসলিম উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা : চরমোনাই পীর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইহুদিবাদী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের সাথে কথিত শান্তি চুক্তিকে মুসলিম উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে আরব আমিরাতের এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে আরব আমিরাতের চুক্তির ফলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে দ্বিধাভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের এ দ্বিধাবিভক্তি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তানের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ চুক্তি মুসিলম দেশগুলোতে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ১১৮৭ সালে সালাহ উদ্দিন আইয়ূবী ফিলিস্তিনিদের উদ্ধার করে। বৃটিশ-আমেরিকা ইসরাইলকে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বে অশান্তির সুচনা করে। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোর কতক দেশ নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে আল্লাহর দুশমনদেরকে সাথে চুক্তি করছে। ইসরাইলের হাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মা-বোন, নারী-পুরুষ, শিশু হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে। তাদের হাত মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত। অভিশপ্ত ইসরাইলের সাথে কোন চুক্তি মুসলমান করতে পারে না। এ চুক্তির ফলে মুসলিম দেশগুলোতে অশান্তি সৃষ্টি হবে।

আরবদেশে ইসলামী সংষ্কৃতি ধ্বংস করে ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী সংষ্কৃতি চালু হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদীসহ অনেক আরবদেশে ইসলামী সংষ্কৃতি ধ্বংস করে ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী সংষ্কৃতি চালু করছে। এ চুক্তি বাতিল না হলে মুসলিম উম্মাহ আরব আমিরাতসহ তাঁবেদার আরবদেশগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে বাধ্য হবে।

পীর সাহেব বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন ভূখেণ্ডে আর ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করবে না। বিনিময়ে আরব আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। কিন্তু সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণ এই চুক্তির তীব্র বিরোধীতা করছে। অন্যদিকে বাহরাইন, মিসর ও জর্ডান এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ফলে ক্রমেই মুসলিম দেশগুলোর দ্বিধাবিভাক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই চুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে পিছিয়ে দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভক্ত মুসলিম বিশ্ব সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। তাই মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় এ চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এসময় আরও বলেন, ইসরাঈল প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনের নিরীহ, নিরস্ত্র ও নিরাপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন করে যাচ্ছে। হিংস্র হায়েনাদের বর্বর অত্যাচার নিপীড়ন থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। এই জুলুমবাজ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাঈলের সাথে কথিত শান্তি চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে আধিপত্যবাদী ইসরাঈল মুসলিম বিশ্বে তাদের খড়গহস্ত আরো প্রসারিত করবে। এরফলে পুরো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে চরমভাবে আঘাত করেছে আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

ইসলামবিরোধী শক্তি এই চুক্তির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করবে শংকা ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, এই চুক্তি আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জনগণের কোন উপকারে আসবেনা বরং ইসলামবিরোধী শক্তি এই চুক্তির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করবে। সৌদী আরব ইসরাঈলকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত করার সুযোগ করে দিয়েছে সৌদী সরকার। সৌদীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওআইসি ও আরবলীগকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে তাদের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার ও কথিত শান্তি চুক্তি বাতিল করার জোর দাবি জানান।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com