১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

‘ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে হলে আকাবিরদের জীবনাচারে ফিরে যেতে হবে’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘ইসলামকে টিকাতে হলে আকাবিরদের লাইফস্টাইল ফলো করতে হবে। আমরা যাদি আকাবিরদের মতো ধৈর্য্য না ধরি, তাদের মতো করে না চলি, তাহলে আমাদের জন্য সামনে আরও কঠিন দিন অপেক্ষা করছে।’

বুধবার (৯ জুন) অনলাইনে জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ইফতেতাহি দারসে জামিআর ১৪৪২-৪৩ হিজরীর শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান করতে গিয়ে এসব কথা বলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য প্রয়োজনের পূর্বেই প্রস্তুত করে রেখেছেন উল্লেখ করে আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ (দা.বা.) বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হলো বাহনের মতো। ঘোড়া যেমন খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি ঘোড়ায় চড়ে জিহাদও হতে পারে।

তিনি বলেন, ইসলাম একটি চিরপ্রবাহমান ধর্ম। ইসলামের গতি কখনো রুদ্ধ হবে না। পথে যদি কোন পাথর পড়ে, তবে সেই প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়েই ইসলাম আপন গতিতে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: প্রেরণার বাতিঘর আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

কম্পিউটার-ইন্টারনেট এই যামানার হাদীসের তালিম গ্রহনের নতুন একটি মাধ্যম উল্লেখ করে জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা মাসঊদ বলেন, তাহদীস, কিতাবাত, মুনাওয়ালাত ইত্যাদি যেমন হাদীস বর্ণনার প্রকার, এমন নানা পদ্ধতিতে হাদীস বর্ণনা আমাদের মাশায়েখে কেরাম, মুহাদ্দিসিনের কেরামের মধ্যে ছিল। আগেরকালে তো কম্পিউটার ছিল না, তাই তারা কম্পিউটারকে এ্যাড করেন নি। এখন যেহেতু আমাদের কাছে কম্পিউটার আছে, তাই আমরা কম্পিউটারকেও (সরাসরি সম্প্রচার) হাদীস তালীমের একটি মাধ্যম হিসেবে যোগ করে নিলাম।

ইজতিহাদ আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য রহমত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কুরআনের আয়াত ও হাদীসের শব্দের উপরেই আবদ্ব থাকতে হতো, তাহলে শরীয়ত তার গতি হারিয়ে ফেলতো। ইসলাম গতি হারিয়ে ফেলতো। মানুষের জন্য শরীয়তের সহজিকরণের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতো।

শরীয়তে ইজতিহাদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে ফিদায়ে মিল্লাতের এই খলীফা বলেন, আগের দিনে ইজতিহাদের প্রয়োজন ছিল না। প্রত্যেক যামানায় আল্লাহ নবী পাঠিয়ে দিতেন। ওহীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। কিন্তু এই যামানায় আর নবী আসবে না। তাই আগের দিনের নবীর ইলহামের জায়গায় এই উম্মতের ইজতিহাদের স্থান।

পূর্বসূরি আলেমদের উসুলের অধীনে থেকে ইজতিহাদ করতে হবে উল্লেখ আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইজতিহাদ এখনো আছে, যেখানে শরীয়তের গতিপথ রুদ্ব হয়ে যাবে সেখানে ইজতিহাদ আছে। যারা বলেন যে, ইজতহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের কথার অর্থ হলো, নতুন ভাবে উসূল সৃষ্টি করে ইজতাহ করার সুযোগ নেই। বরং পূর্বসূরি উলামায়ে কেরামের উসুলের অধীনে থেকে ইজতিহাদ করতে হবে।

যারা বলেন ইজতিহাদের অবারিত সুযোগ রয়েছে আর যারা বলেন ইজতিহাদের যাবতীয় দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এই উভয় দলই শরীয়তের মেজাজ বুঝতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থের পিছনে ছুটলে অধ্বঃপতন অনিবার্য উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দুনিয়ার লাইনেই টাকা-পয়সার পিছনে ঘুরলে দুনিয়া হাসিল হয় না, আর আখিরাতের লাইনে টাকা-পয়সার পিছনে পড়লে কীভাবে আখিরাত হাসিল হবে?

আরও পড়ুন: মাদরাসা খোলার ‘মৌখিক’ অনুমতির গুজব, আলেমদের উস্কানি দিচ্ছে একটি মহল

ছাত্রদেরকে মেহনতি হওয়ার আহবান জানিয়ে জামিআ ইকরার শাইখুল হাদীস বলেন, পরিশ্রম ও মেহনত এমন জিনিস, পৃথিবীতে যার কোন বিকল্প নাই। মেহনত ছাড়া কোন কিছু আল্লাহ তাআলা কাউকে দেন না। সুতরাং তোমরা মেহনতের সাথে পড়বে, এখলাসের সাথে পড়বে।

আখিরাতের সম্পর্ক ইখলাসের সাথে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুনিয়ার সম্পর্ক আল্লাহ আসবাবের সাথে করেছেন, কিন্তু আখিরাতের সম্পর্ক করেছেন ইখলাসের সাথে। এমনকি আসবাব থাকার পরও ইখলাসের প্রয়োজন হয়।

দ্বীন শিখতে হয় রিজাল দ্বারা উল্লেখ করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলন, কিতাব কেবল সহায়ক মাত্র। কিন্তু দ্বীন শিখতে হবে রিজালের কাছে। সবসময় আল্লাহ আগে রিজাল পাঠিয়েছেন, তারপর কিতাব। নিজে নিজে পড়লে মওদুদী সাহেব হওয়া যাবে, শাইখুল হিন্দ রহ. হওয়া যাবে না। শাইখুল হিন্দ হতে হলে নিজের ইলমকে উস্তাদের উপর সোপর্দ করতে হবে।

সবশেষে ছাত্রদেরকে একজন ভালো আলেম হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে তিনি বলেন, বর্তমান যামানায় একজন ভালো আলেমের অভাব। যে আলেম মুখলিস হবেন, যে আলেম পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি মুতাওয়াক্কিল হবেন। মাদরাসা না হলেও চলবে, প্রতিষ্ঠান না হলেও চলবে, তাবলীগ না হলেও চলবে, জিহাদ না হলেও চলবে। কিন্তু ভালো মানের একজন আলেম যদি না থাকেন, তাহলে জিহাদও নষ্ট হবে, তাবলীগও নষ্ট হবে, মাদরাসাও নষ্ট হবে, সব কিছু নষ্ট হবে। সুতরাং একজন ভালো আলেম হওয়ার জন‌্য চেষ্টা করো।

জামিআর ইফতেতাহি অনুষ্ঠানে অনলাইনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈসুল জামিআ হযরত মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, জামিআর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী, মুফতি সাইফুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি হামীদুর রহমান, মুফতি আমিনুর রহমান কাসেমী, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতি শফিকুল ইসলাম, মুফতি রিয়াজুল ইসলাম সহ জামিআ ইকরা বাংলাদেশের শিক্ষক, ছাত্র ও স্টাফবৃন্দ।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com