১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১লা সফর, ১৪৪২ হিজরী

ইয়াজিদকে হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর তাৎপর্যপূর্ণ ওসিয়ত

ইয়াজিদকে হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর তাৎপর্যপূর্ণ ওসিয়ত

সালিমুদ্দীন মাহদী :: ইন্তেকালের আগে তিনি ইয়াজিদকে ডেকে বলেন, ‘বৎস, কষ্টকর অভিযাত্রা থেকে তোমাকে বাঁচিয়েছি। দুশমনদের দুর্বল করে দিয়েছি। আরব নেতাদের গর্দান তোমার সামনে অবনত করে দিয়েছি।

হিজাযবাসীদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবে। তাদের মধ্যে যদি কেউ কাছে আসে সম্মান দেখাবে; কেউ যদি দূরে চলে যায় তার খেয়াল রাখবে। ইরাকবাসীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখবে। প্রতি দিন যদি তারা গভর্নর পরিবর্তনের দাবি জানায়, তাদের এই দাবি মেনে নেবে। একজন গর্ভনরের পরিবর্তন অনেক বেশি ভালো মনে করি এক লাখ তরবারি তোমার বিরুদ্ধে উত্তোলনের চেয়ে। সিরিয়াবাসীকে আপন করে নেবে, তাদের বন্ধু বানিয়ে রাখবে। কুরাইশ বংশের চার ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্যাপারে আমার ভয় নেই।

হোসাইন ইবন আলী রা:, আবদুল্লাহ ইবন ওমর রা:, আবদুর রহমান ইবন আবু বাকর র: ও আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের রা:। আবদুল্লাহ ইবন ওমর রা:-এর প্রতিটি মুহূর্ত দ্বীনদারিতে নিমগ্ন। তিনি তোমার কাছে কিছুই চাইবেন না। তিনি যদি দেখেন- তার আশপাশে আর কেউ নেই, তিনিই একদিন তোমার বাইয়াত গ্রহণ করবেন। আবদুর রহমান ইবন আবু বাকর রা: খেলাধুলা ও নারী নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তার অন্য দিকে নজর দেয়ার অবকাশ নেই। তার বন্ধুবান্ধবরা যে দিকে মত দেন, তিনিও সে দিকে ধাবিত হন। যিনি সুযোগ পেলে বাঘের মতো তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন, শিয়ালের মতো তোমাকে ধোঁকায় ফেলবেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের রা:। তিনি যদি তোমার সাথে প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করেন, তার মুকাবেলা করো এবং তাকে যদি তোমার আওতায় আনতে পারো তাহলে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেবে। তিনি যদি সমঝোতা করতে আগ্রহী হন, তাহলে তোমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সমঝোতার প্রস্তাব মেনে নেবে।

নিজের জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তপাত হতে দেবে না। হোসাইন ইবন আলী রা: স্বাধীনচেতা ব্যক্তি। আমার প্রত্যাশা যেসব ব্যক্তি তার বাবাকে হত্যা করেছে, ভাইয়ের পক্ষ ত্যাগ করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের মাধ্যমে হোসাইনের রা:-এর ব্যাপারে চিন্তা থেকে তোমাকে মুক্তি দেবেন। আমার মনে হয়, ইরাকবাসী তাকে তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী না বানিয়ে ছাড়বে না। তুমি যদি তার (হোসাইন রা:) ওপর বিজয় লাভ করো, তাকে ক্ষমা করে দিও। এ জাতীয় ঘটনা আমার সময়ে হলে অথবা কোনো প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে এলে আমিও ক্ষমা করে দিতাম। এতে কোনো সন্দেহ নেই, তিনি আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তার বিরাট হক রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নিকটতর বংশধর তিনি (ইবন জারির, তারিখে তাবারি, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫১-১৫২)।

লেখক : উস্তাদ, জামিআ ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com