১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

মনের পশুকে দমনই আসল কোরবানি

মাসউদুল কাদির : ইসলামের ত্যাগের গল্পে পবিত্র ঈদুল আজহা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মানবজীবনে বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন এনেছে এই কোরবানি। কোরআনে সরাসরি ঘোষণা করা হয়েছে, আল্লাহর কাছে এর গোশত কিংবা রক্ত পৌঁছায় না; বরং তাঁর দরবারে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছায়। (সূরা হজ : আয়াত ৩৭)।

এই তাকওয়ার পরিবেশে মানুষকে তুলে আনার জন্যই যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ পৃথিবীতে এসেছেন। এটা নিতান্তই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক বড় অনুগ্রহ। আমরা জানি, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম -এর সীমাহীন ভক্তি, সর্বোচ্চ ত্যাগের সদিচ্ছা এবং গভীরতম আত্মসমর্পণে মহান আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন এবং তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ পশু কোরবানি করতে নির্দেশ দেন।

পবিত্রতম প্রেমের যে জয়গান গেয়েছেন হযরত ইবরাহীম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম, তা পৃথিবীতে স্মরণীয় এক ঘটনা হিসেব আখ্যায়িত হয়ে আছে। সে ঘটনার পর থেকে মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হিসেবে পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন। প্রতি বছর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র হজের পরই কোরবানি দেয়া হয়। পাঁচ দিন ধরে চলে হজের আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান আরাফার ময়দানে সমবেত হন। এই সমাবেশ সর্বোত ভ্রাতৃত্ববোধের সামিয়ানা। অনন্য এক দৃষ্টান্ত এটি।

কোরবানি আসলে কি? ত্যাগ। কিন্তু আজ সে ত্যাগ কই? কোথায়? মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে সমাজ আজ ক্ষতবিক্ষত। দেশে বন্যায় প্লাবিত অসংখ্য মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানোও অনেক বড় পুণ্যের কাজ। ত্যাগের মহিমা এসব কাজে সম্পৃক্ত হয়েও প্রকাশ করা যায়। কিছু পরিতাপেরও বিষয় আছে, লোক দেখানো আচার-আচরণ পরিত্যাগ করা উচিত।

এদেশের অনেকের কাছে ইসলামের মতো আধ্যাত্মিক একটি বিষয়ও পরিণত হয়েছে লোক দেখানো আচারে। প্রতিযোগিতা করে মাংস খাওয়া এবং মাসের পর মাস ডিপফ্রিজে জমিয়ে রাখা ইদানীং আমাদের কালচারে পরিণত হয়েছে। এটা কি মুসলমানের কাজ? গোশত খেতে বাধা নেই। তবে ত্যাগের মহিমা কীভাবে প্রকাশ করবো? আল্লাহতায়ালা প্রিয় বস্তুকে দান করতে উৎসাহিত করেছেন। আমরা তাঁর আদেশ পালন করব অন্তর থেকেই, মানুষকে দেখানোর জন্য নয়। এটা পুণ্য নয়।

ঈদ মানে বার বার ফিরে আসা, মানে আনন্দ। আল্লাহ এ আনন্দে দরিদ্রদের শরিক করার জন্য তার ধনী বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন। লোক দেখানো ইসলামী আচার পালনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা, বন্ধুত্ব, মমতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আদর্শকে আমরা সমুন্নত রাখতে পারি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা সবাইকে।

লেখক : ছড়াকার ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com