১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

ঈদ আনন্দ মরে গেছে ১০ লাখ শিক্ষকের

ঈদ আনন্দ মরে গেছে ১০ লাখ শিক্ষকের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দশ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীর ঈদ আনন্দ উবে গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় দিশাহারা অবস্থায় আছেন ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ফলে এই শিক্ষক-কর্মচারীরা জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ঈদের আনন্দের চেয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের চিন্তায় দিন পার হচ্ছে তাদের।

সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। দেশের প্রায় সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২৫ হাজার শিক্ষক বেতন না পেয়ে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় এখনো নন-এমপিওভুক্ত। এ ছাড়া সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় তিন লাখ খণ্ডকালীন বা অস্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী গত মার্চ মাসের পর থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের মহাসচিব সাফায়েত হোসেন বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মালিক ও শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেক সমস্যায় রয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে গত মার্চ মাস থেকে সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে নিজের সাজানো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের কষ্ট বলে বোঝানোর মতো নয়। ঈদের আনন্দের কথা তারা স্বপ্নেও ভাবছেন না। যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হতো তাহলেও আমরা এ যাত্রায় বেঁচে যেতাম।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রথম পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক ও ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারীকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ৫১ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষক ও ১০ হাজার ২০৪ জন কর্মচারীকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা অনুদান দেন। এতে একজন শিক্ষক পাঁচ হাজার ও কর্মচারী আড়াই হাজার করে টাকা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের জন্য অবশ্যই তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাঁচ হাজার টাকায় একজন শিক্ষক কতদিন চলতে পারেন? আগে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি করলে কিছু টাকা পেতেন। কিন্তু করোনার পর তাও বন্ধ। চলতি অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তির বরাদ্দের ব্যাপারে এখনো আমরা কিছু জানতে পারিনি। চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীরা।’

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক নেকবর হোসাইন বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কলেজে চাকরি করেও আমরা নন-এমপিও শিক্ষক। দীর্ঘদিনেও আমাদের জনবল কাঠামোতেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। অথচ আমরা লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। সামনে ঈদ অথচ বেতন নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com