৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

উৎকর্ষতায় প্রযুক্তির চমক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: তরতর করে এগিয়ে চলেছে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির নানা ব্যবহার। সে আপনি ক্যামেরা বলেন, মোবাইল বলেন, কম্পিউটার বলেন কিংবা আর যাই কিছু। দিনে দিনে উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের আশপাশের ছোট-বড় প্রযুক্তির যতসব মাধ্যম। আসুন তার কয়েকটি সম্পর্কে একটু জেনে নিই।

১০৮, ৪৮ ও ৬৪ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা: মোবাইল ক্যামেরার অগ্রগতি ডিএসএলআর জগৎকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বে প্রথমবার ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর বাজারে নিয়ে এসেছে স্যামসাং। চীনের শাওমি সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আইএসওসেল ব্রাইট এইচএমএক্স নামের সেন্সরটি এনেছে স্যামসাং। এছাড়া ১০৮ মেগা পিক্সেলের হাই রেজোলিউশন ক্যামেরা যুক্ত মোবাইল ফোন এনেছে শাওমি। এমআই নোট-১০ অথবা সিসি ৯ প্রো মডেলটি সম্প্রতি ইউরোপের বাজারে তারা ছেড়েছে। এর আগে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নির্মাতা সংস্থা ৪৮ ও ৬৪ মেগা পিক্সেলের রেয়ার বা ব্যাক ক্যামেরা দিচ্ছে। মূল ক্যামেরার পাশাপাশি আরও তিনটি ক্যামেরা ও সেন্সর দিচ্ছে, যার মাধ্যমে ক্রেতারা আরও নিখুঁত ও ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ছবি তুলতে পারছেন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং: মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা গুগল দাবি করেছে তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করে ফেলেছে। ‘নেচার’ পত্রিকায় ৭৮ জন বিজ্ঞানী একটি পেপার লিখেছেন। সেখানে তাঁরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রসেসরের পরীক্ষা চালায় গুগল। নতুন এই প্রসেসর মুহূর্তে যে গণনা করেছে সব থেকে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের একই গণনা করতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগবে। এই বিষয়টিকেই বলা হয় কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই): প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে মেশিনকে বুদ্ধিমান করে তোলাই হল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা। এটি হল এক ধরনের সফটওয়্যার টেকনোলজি, যা রোবট বা কম্পিউটারকে মানুষের মতো কাজ করায় এবং ভাবায়। এককথায় মেশিন লার্নিং। দীর্ঘদিন ধরে এর গবেষণা ও প্রযুক্তিকে উন্নতি করার কাজ শুরু হলেও এ বছরই সব থেকে বেশি উন্নতি করছে এআই। বর্তমানে প্রায় ৮৩ শতাংশ ব্যবসায় ব্যবহার হচ্ছে এআই। স্মার্ট ফোন থেকে যেকোনও স্মার্ট ডিভাইস, সোশ্যাল সাইটসহ সর্বত্র ক্ষেত্রে এআইয়ের রমরমা। উদাহরণ: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যালেক্সা, সিরি।

মানুষকে হারাল রোবট: খবরের শিরোনাম দখল করল গুগলের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংস্থা ‘ডিপ মাইন্ড’। তারা জানাল মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন ভিডিও গেমে মানুষকে হারিয়ে দিয়েছে ডিপ মাইন্ড-এর এআই রোবট।

ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি): স্মার্ট টেকনোলজিতে জোয়ার এসেছে এ বছর। তা সে স্মার্ট হোমই হোক বা স্মার্ট সিটি বা স্মার্ট এগ্রিকালচার। সবই ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে উঠেছে। যে দু’টি ক্ষেত্রে এ বছর সবথেকে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে, তা হল স্বাস্থ্য ও উৎপাদন। বর্তমানের বেশিরভাগ শিল্পোৎপাদন সংস্থা নিখুঁত উৎপাদন ও অভিনবত্বের জন্য আইওটি ডিভাইস ব্যবহার করছে।

ক্লাউড: নিজের জিনিসপত্র আর একজনের স্টোরেজে স্টোর করে রাখার নামই হল ক্লাউড কম্পিউটিং। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্যের রিসোর্স যেমন ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ ইত্যাদি পরিষেবা পেতে পারে। আজ প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি সংস্থা কোনও না কোনও ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহার করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর): ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হল, সফটওয়্যার দ্বারা তৈরি একটি কাল্পনিক পরিবেশ যা ব্যবহারকারীর কাছে বাস্তব জগৎ হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তব চেতনার উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনা। আর বাস্তব জগতের এক বর্ধিত সংস্করণের প্রযুক্তি হল অগমেন্টেড রিয়েলিটি। আপনি বাস্তবে যা দেখবেন, তার উপর কম্পিউটার নির্মিত একটি স্তর যুক্ত করে দেবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি। তখনই বাস্তব এবং ভার্চুয়ালের সংমিশ্রণে তৈরি হবে এক নতুন অনুভূতি। ২০১৯ সাল জুড়ে প্রচুর পরিমাণে ভিআর, এআর নির্ভর যন্ত্র বিক্রি হয়েছে। সবথেকে বেশি বিক্রি হয়েছে ভিডিও গেম শিল্পে।

ড্রোন ডেলিভারি: ড্রোন মারফত পণ্য পরিবহণে জোয়ার এসেছে এ বছর। ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতিতে কাজ করছে অ্যামাজন, অ্যাপল, উবর ইটসের মতো সংস্থা। এছাড়া গুগলের শাখা সংস্থা উইং এবং ইউপিএস হল প্রথম দু’টি সংস্থা যারা আমেরিকার ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্র পেয়েছে।

বৈদ্যুতিক যানবাহন: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির কদর বেড়েছে। কিন্তু, এ বছর বিশ্বজুড়ে সবথেকে বেশি বিক্রি হয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি। চিরাচরিত গাড়ি সংস্থা ছাড়াও নিত্য-নতুন সংস্থা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করছে। তথ্য বলছে, নরওয়ে যেখানে পৃথিবীর সবথেকে বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি চলে, সেখানে এ বছর যত সংখ্যক গাড়ি বিক্রি হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই বৈদ্যুতিক। ব্যাটারি সংস্থা হওয়াতেই এই অগ্রগতি।

সেরা স্মার্টফোন: গত কয়েক বছরের মতো ২০১৯ সালেও একের পর এক স্মার্টফোন বাজারে এসেছে। বিভিন্ন ফোনের ক্যামেরা, ব্যাটারি ও পারফর্মেন্সের বিচারে এ বছরের সেরা তথা জনপ্রিয় কয়েকটি ফোন হল — স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট-১০ প্লাস, ওয়ান প্লাস ৭-টি প্রো, শাওমি রেডমি কে-২০ প্রো, রিয়েলমি এক্স-২ প্রো, রেডমি নোট-৮ প্রো, ভিভো ইউ-২০।

এছাড়াও আসুন সেরা কয়েকটি টেকনিক্যাল স্কিল বা প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পর্কেও জেনে নিই একবারে  :

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলছে ডিজিটাল বিপ্লব। চাকরির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিভিন্ন ভাষা বা ল্যাঙ্গুয়েজ এবং তা ব্যবহারে দক্ষ মানুষের চাহিদা বাড়ছে। সেরকমই ২০১৯ সালে সেরা কয়েকটি প্রযুক্তি দক্ষতা হল:

জাভা: বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। জাভার জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর পোর্টেবিলিটি, নিরাপত্তা এবং ওয়েব প্রোগ্রামিংয়ের সম্পূর্ণ সাপোর্ট।

লিনাক্স: লিনাক্স একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। আমাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার, সার্ভার এমনকী সুপার কম্পিউটারেও রয়েছে লিনাক্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পৃথিবীর ৯৫ ভাগের বেশি সার্ভার কম্পিউটারগুলোতে লিনাক্স ব্যবহৃত হয়।

এসকুয়েল: ডেটাবেস ম্যানেজমেন্টের একটি শক্তিশালী ল্যাংগুয়েজ।
এই ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে যে কোনও ডেটাবেস সিস্টেমের ডেটা পরিচালনা এবং অ্যাকসেস করতে পারা যায়। এটাকে চতুর্থ প্রজন্মের ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয়।

জাভাস্ক্রিপ্ট: এটাও একটা জনপ্রিয় স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ। ওয়েবপেজের ইন্টারঅ্যাকটিভিটি, কাজের ব্যাপ্তি, ফর্ম ভ্যালিডেশন, সময় ও তারিখ নির্দেশ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com