৬ই মার্চ, ২০২১ ইং , ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরী

ঋদ্ধ হোক বাংলা ভাষা

এই সময় । কাব্য সাহা

ঋদ্ধ হোক বাংলা ভাষা

রক্তস্নাত আন্দলোনের সূত্রপাত ঘটেছিল এই ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে। আমাদের মুখের বুলি রক্ষা করতে রফিক, শফিক, বরকত ও আবদুল জব্বারের মতো ভাষা শহীদের অবদান চির অম্লান হয়ে আছে। আজও গর্ব করে বলি আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। যা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবেও বিশ্বব্যাপী পরিচিত। কিন্তু বাংলা ভাষার শুদ্ধতা, এর ব্যবহার, এর সঠিক চর্চা আমরা সবাই করছি তো? যেই চেতনা থেকে রফিক-শফিকের বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম সেই চেতনার পথে হাটছি তো?

ভাষার মাস বলতেই আমাদের বিশেষ নজর থাকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির দিকে। একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভাত ফেরিতে অংশ নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি গেয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেই আমাদের দায়িত্ব শেষ? শেষ নয় কিন্তু। সালাম-বরকতের রক্তমাখা রাজপথ শুধু বিশেষ কোনো দিনের জন্য নয়। কিন্তু আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি সকলের শ্রদ্ধা শুধু ২১ ফেব্রুয়ারিতেই। অনেকের কাছে দিবসটিকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা থাকলেও নেই তার দীর্ঘ ব্যপ্তি। আজ সর্বস্তরে নেই বাংলার ব্যবহার। নেই বাংলার শুদ্ধ চর্চা। আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে ভাষার ব্যবহার হয় হিন্দি, ইংরেজি, বাংলার সাথে মিলিয়ে এক মিশ্র ভাষায়।

অনেক পরিবার সন্তানকে সমাজে তথা দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে দিছে ইংরেজি শিক্ষা কিন্তু মাতৃভাষার গাঁথুনি যদি মজবুত না হয়, সেই শিক্ষা কতোটা গৌরবের। শিক্ষার সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জরিয়ে আছে নিজস্ব ভাষার। নিজের ভাষা মানুষের আত্মবিকাশের পথকে সম্প্রসারণ করে। তাই নিজের ভাষা রপ্ত করলে আত্মপ্রকাশের পথ হয় সুগম। আমার কাছে মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাংলা ভাষার বিকল্প কোন ভাষা আছে বলে মনে হয় না। নিজের ভাষা দিয়ে নিজের দেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম। সাবলীল ভাবে বাংলায় কথা বলা, লেখার জন্য প্রয়োজন যথাযথ বাংলার চর্চা করা। বাংলা ভাষাতেই তরুণদের নিজেদের তুলে ধরতে হবে, কোনো মিশ্রভাষায় নয়। তাই তাদের শপথ হোক বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চার, যা তাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষাভাষীদের কাছে পৌছে যাবে।

সালাম-বরকতের ইতিহাস পৌছে দিতে হবে নবাগত শিশুদের মাঝে। তরুণ প্রজন্মের মাতৃভাষাকে বুকে ধারণ করতে হবে। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে প্রভাত ফেরিতে একুশের গান গাওয়া হলেই বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় না। শহীদের স্মরণ করা হয় না। তাদের চেতনার পথে আমাদের হাটতে হবে। প্রতিটি দিনকে বাংলা ভাষার আবর্তনে জরিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য ভাষার পরিধি থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করা যেতেই পারে। তবে সবাই ভিন্ন ভাষার শিক্ষা নিলেও মাতৃভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করে তারপর না হয় অন্যান্য ভাষার চর্চা হবে।

এই বাংলা ভাষার থেকেই সৃষ্টি হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলসহ কতোনা লেখক, কবি, সাহিত্যিক,সাংবাদিক প্রমুখ। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের তৃপ্তি অন্যকোনো ভাষায় পাওয়া যায় কিনা তা ঠিক আমার জানা নেই। তবে সৃজনশীলতা চর্চায় বাংলার জুড়ি মেলা ভার। বাংলাকে বুকে লালন করতে জানতে হবে, তাহলে বাংলাও একসময় উজার করে মেলে দিবে তার ঐতিহ্য।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসেও আমাদের বলতে হয়, আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো দখল নিয়ে রেখেছে ইংরেজি ভাষা। এখনো দেশের কিছু জায়গায় প্রশাসনিক ভাবে নথিপত্রসহ সকল কিছুর কার্যক্রম পরিচালনা হয় ইংরেজি ভাষাতেই। আশা করছি এক সময় বাংলা ভাষা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই জায়গা দখল করে নিবে। অতুল প্রসাদের ন্যায় বলতে হয় মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার।

হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যম-িত সমৃদ্ধ-সাবলীল আমাদের মাতৃভাষা। সময়ের পালাক্রমে বদলে যাছে বাংলার সঠিক ব্যবহার। আর এই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। মিশ্রভাষায় মনের ভাব প্রকাশ নয়, বাংলার প্রতি উদাসীনতা কাটিয়ে বাংলাকে ভিতরে ধারণ করতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে বাংলা ভাষা থেকে। যেভাবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা জীবনানন্দ দাশের মতো অগণিত নক্ষত্র সৃষ্টি হয়েছিল।

লেখক : শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com