১৫ই জুলাই, ২০২০ ইং , ৩১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

একটি ব্যাথা ও জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর দিক নির্দেশনা

একটি ব্যাথা ও জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর দিক নির্দেশনা

মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ পুরো পৃথিবী কিসের আতঙ্কে কাঁপছে, সেটা কারো অজানা নয়; করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটি থেকে বাঁচতে পৃথিবীর সব দিক থেকে  আসা সতর্ক বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সবাই পাচ্ছি নিয়মিত। মুসলিম হিসেবে আমাদের দায় দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। বিধর্মীদের কাছে শেষ চিকিৎসা নিরাশ হওয়া অথচ ইসলামে এটা জঘন্যতম অপরাধ; এক কথায় কুফুরি। যখন কোন দেশ বা অঞ্চলে এমন মহামারি ছড়িয়ে পড়ে, তখন সে দেশ ও অঞ্চলের জনগণের সার্বিক দায়িত্ব কি তা ইতিমধ্যে মক্কা-মদিনার ইমামগণ, উপমহাদেশসহ বিশ্বের সকল উলামায়ে কেরাম পৃথিবীহাসীকে তা অবহিত করেছেন। তাঁদের সবার সতর্ক বার্তার ভিতর একটা কথা বারবার এসেছে যে,  যেহুতু এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রকার বালা মুসিবত। সুতরাং আমাদের  সবার উচিতৎ ঘরে থেকে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে তওবা ইস্তিগফার করা, কান্নাকাটি করা।

অবাক করা বিষয় হলো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছে, আমাদের সব প্রচেষ্টা শেষ, সমাধান এখন আসমানে। দূর্যোগ কতটা ভয়াবহ হলে দুনিয়াবি আসবাবে পূর্ণ একটি রাষ্ট্রের প্রধান একথা বলতে পারে (১)?! এমন তাজা তাজা নিউজ চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও  বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলো কোন সাহসে ঘরে বন্দী সময়টাতে কোন কোন মুভি দেখলে ভাল লাগবে, সময়গুলো সুন্দর কাটবে  ইত্যাদি সাজেস্ট করে?!!

আমি নির্বাক! বিস্মিত!! হতাশ!!! বিপদ আসতে দেখলে যে ঈদের নামাজ পর্যন্ত পড়ে না; সেও টুপি পরে। অথচ বিপদে যখন অলরেডি পড়ে গেছি তখন কিসের উল্লাস, কিসের উন্মাদনা? হে আল্লাহ!  আমাদেরকে সঠিক বুঝ দাও। ইউনুস (আ.)-এর জাতীর মত তাওবাতান নাসুহার তাওফিক দাও।

করোনা ভাইরাসের এহেন ভয়াল উন্মত্ততায় আমাদের করনীয় বিষয়ে ভারতের মুসলিমদের সবচেয়ে প্রাচীন সমাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের দিক নির্দেশনা আমার কাছে ভাল লাগায় তা সতর্ক হুবহু নিম্নে উল্লেখ করছি—

‘বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস নামে যে মহামারি আগুনের মত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। বৈশ্বিক এ মহামারির মুহূর্তে বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাথে সাথে মনে প্রাণে এই বিশ্বাস রাখতে হবে, আল্লাহর হুকুম ব্যতিত কোন রোগ কাউকে স্পর্শ করতে পারে না। এতদসত্ত্বেও ইসলামি আকিদা হেফাজতের সাথে সাথে মানবজীবনকে রক্ষার ব্যাপারটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত বা আক্রান্তের আশংকা আছে কিংবা তার কারণে অন্য কেউ অসুস্থ হতে পারে, তাদের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে নিজেকে ও অন্যদেরকে করোনার ব্যাধি থেকে বাঁচানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী এই ভাইরাস একে অপরের সাথে থাকা, মুসাফাহা করা, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ করা কোন বস্তু অন্যের স্পর্শ করার দ্বারাও ছড়াতে পারে। যেখানে লোকসমাগম হয় সেখানে আরো দ্রুত তা ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইবাদাতের গুরুত্ব ও মানব জীবনের হেফাজতের লক্ষ্যে শরয়ী বিধান সামনে রেখে কতিপয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সবাই লক্ষ রাখবেন।

১. রাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা ভাইরাস (কভিড -১৯) থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা মূলক যে ব্যবস্থাপত্রের পরামর্শ দিয়েছে, তাকে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা না করে শরীয়তের সিমায় থেকে তা পালনের প্রতি খেয়াল করা।

২. অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা।

৩. শরীর ও ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।

৪. রোগাক্রান্ত সন্দেহ ব্যক্তির সাথে ওঠা-বসার ব্যাপারে সচেতন হওয়া।

৫. মসজিদে আজান ও ইকামত হবে ঠিক, তবে মসজিদে শুধু ফরজ আদায় করা। সুন্নত ও নফল ঘরে আদায় করা।

৬. মসজিদে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং আবাদ করা। এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা।

৭. জুমার নামাজ সংক্ষিপ্ত পরিসরে আদায় করা। নামাজ ও খুতবা এতটুকু পরিমাণে আদায় করা যতটুকু ফুকাহায়ে কেরাম ওয়াজিব বলেছেন।

৮. যদি কোথাও কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ভাবে আইনী নিষেধাজ্ঞা থাকে সে ক্ষেত্রে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদের দ্বারা জামাত আদায় করে নেওয়া। তবে জুমার নামাজে এই পরিমাণ মুসল্লী থাকা যাদের দ্বারা ফুকাহায়ে কেরামের মতে জুমার নামাজ আদায় হয়ে যায়। আর যারা রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবে না, তাদের জন্য জোহরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

৯. প্রত্যেক ব্যক্তিই আপন আপন জায়গা থেকে তওবা ইস্তিগফার, জিকির ও দোয়া করা। এসময় অশ্লীল অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থেকে নেক ও কল্যাণকর কাজে মনোনিবেশ করা।

১০. দান সদকার প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হবে। মহল্লা ও প্রতিবেশীদের মাঝে যারা গরীব, অসহায়, অসচ্ছল ও রোজগারে বিচলিত তাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা।’

(১) এই তথ্যটি সঠিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com