৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

এমসি কলেজে ধর্ষণ; সাক্ষ্য দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে এই করোনাকালের দুর্যোগ মূহুর্তে ধর্ষণ ঘটনা বেড়ে গেছে আচমকা। সম্প্রতি সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তদন্ত কমিটি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তদন্ত কমিটির বিজ্ঞপ্তি কলেজের নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হয়।

গত শনিবার এমসি কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয় মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে। তিনি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তার সঙ্গে আরও দুজন শিক্ষক সদস্য হিসেবে আছেন। সাত কার্য দিবসের মধ্যে এই কমিটিকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার সকালে পুলিশ তাদের আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার রাতে রাজন আহমদ (২৮) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৯ এর একটি দল। এ সময় রাজনকে পালাতে সহযোগিতা করায় আইনুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় এ মামলার আরেক আসামি মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। একই সময়ে মামলার অন্যতম আসামি রবিউল হাসানকে নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ছাড়া রোববার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক খেয়াঘাট এলাকা থেকে গণধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর আরেক আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয় হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা থেকে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com