১৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ১লা ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

কওমি নেতৃত্ব ও অন্ধকার আগামী

ডাক দিয়ে যাই । লাবীব আব্দুল্লাহ

কওমি নেতৃত্ব ও অন্ধকার আগামী

কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে অতীতে৷ পরের বছর করোনা সংকটে পরীক্ষা হয়নি৷ পুরো কওমী এখন পরীক্ষায় নিপতিত৷ ইমতিহান ও ইবতিলায় পতিত৷ কওমী মাদরাসা যে কারণেই হোক শুকরিয়া মাহফিল করেছে এবং কওমীরা কওমী জননী উপহারও দিয়েছে সেই মাহফিলে৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমীর দেওয়া উপাধী গ্রহণ করেছেন কি না আমার জানা নেই৷ কওমী মাদরাসা স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্যের কথা বললেও করোনাকালে সরকরি বরাদ্দ বা প্রণোদনা গ্রহণ করেছে বাধ্য হয়ে বা অভাবে পড়ে৷ অভাবে স্বভাব নষ্ট— সেই প্রবাদই বাস্তব হল এক্ষেত্রেও৷ এই বরাদ্দ যারা নেবে না বলে বিবৃতি দিয়েছেন তারা বরং আগেই নিয়েছেন যেন বাদ না পড়ে তালিকা থেকে নেতাজীর মাদরাসা৷ দ্বিচারিতারও একটি সীমা থাকে৷ সেই বরাদ্দের তালিকা মজুদ রয়েছে৷ সংরক্ষিত৷ কওমীরাও জনগণ, নাগরিক তাই তাদের টাকা তারা নেবে তাতে সমস্যা কী বলে খুশী ও যুক্তি দিয়ে বরাদ্দ নিয়েছে৷ কেউ কেউ বাদ পড়েছেন বা গ্রহণ করেননি তারা সংখ্যায় স্বল্প ৷ অথবা নেই৷

প্রশ্ন ফাঁস, শুকরিয়া মাহফিল, সরকারি বরাদ্দ গ্রহণ দারুল উলুম দেওবন্দের উসূলে হাশতেগানা বা আট মূলনীতির কোনটির সঙ্গে মিলে তা আমার জানা নেই৷ দারুল উলুম দেওবন্দ শত কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ গ্রহণ করেনি৷ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে৷ বাংলাদেশে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমী মাদরাসা সরকারি বরাদ্দ গ্রহণ করেছে৷ এটি অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ কওমী মাদরাসার সিলেবাসে দারুল উলুম দেওবন্দে ইতিহাস ঐতিহ্য যথাযথভাবে পড়ানো হয় না এখন৷ কোনো মাদরাসায় উসুলে হাশতেগানা পাঠ্য নয় উর্দুতে৷ বাংলায় যথাযথ অনুবাদ করা হয় না৷ হলে সরকারি স্বীকৃতি নিতো না৷ এখানে সরকারকে দায়ী করা বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা বলে লাভ নেই৷ ইহুদী-নাসারা-মুশরিক প্রশ্ন ফাঁস করতে হাজির হয় নাই বেফাক বা হাইআতে৷ শুকরিয়া মাহফিলে কোনো পাদ্রী ঠাকুর বা পুরোহিত আসেননি ষড়যন্ত্র করতে৷ সরকরি বরাদ্দ গ্রহণ করতে মুহতামিম বা মাদরাসা প্রতিনিধির দস্তখত দিয়েই গ্রহণ করতে হয়েছে দান-অনুদান৷ তালিকায় দেখলে স্পষ্ট হবে বিষয়টি৷

হাটহাজারি মাদরাসায় যা হচ্ছে বা নাজিরহাট বড় মাদরাসায় যে কীর্তি কলাপ ঘটছে গত কিছুদিন থেকে এতে কি কোনো পাদ্রী ঠাকুর পা পুরোহিত এসেছেন? সরকার বাধ্য করছে এইসব করতে?

নীরবে নিভৃতে একাকী মনকে আমরা জিজ্ঞাসা করি আসলে কি সব বাইরে বা ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্র না আমদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লেলিহান মানসিকতা দায়ী?

আমৃত্যু পদ আঁকড়ে রাখা এবং নিজ সাহেবজাদা বা নিজের মুরীদ, খলীফা বা (দর্জিশ্রেণি নয়) লোকদের প্রতিষ্ঠা করে কওমীর স্বাধীনতা স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য নষ্ট করার নিজস্ব প্রচেষ্টা নয় কি এইসব তৎপরতা? করোনাকালে সরকারের কি কোনো কাম কাজ নেই? সব রেখে হাটহাজারি ও নাজিরহাট নিয়ে সরকারের মাথা ব্যথা! সব ব্যপারে সরকার বা ইহুদী নাসারা না খোঁজে আমরা আমাদের নফস ও শয়তানি মানসিকতার একটু খবর নিতে পারি৷ জনগণের মালকে গনীমত মনে করার মানসিকতা বর্জন না করলে হালাকত অনিবার্য৷ প্রাপ্য৷ নিশ্চিত৷ আলামত দেখা যাচ্ছে দিবালোকের মতো৷

গত এক দশকে হেফাজতে ইসলাম, বেফাক ও হাইআর কর্মনীতি, পলিসি, কর্মকৌশল, শূরা, আমেলা, হিসাব, হেলিকপ্টারে করে মিটিংয়ে তাশরিফ আনয়ণ, আব্বা হুজুর, জ্বি হুজুর, একাই নিত পদ দখল, নাবালেগদের পদায়ন শূরায় এবং করোনাকালেও বেফাক হাইআ ও হেফাজত হাজার হাজার শিক্ষকদের জন্য আর্থিকভাবে কিছু না করা, ভর্তি করেও তালেবে ইলম ও অভিভাবক কী করবেন তার সঠিক নির্দেশনা না দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আত্মসমালোচনা করতে পারি৷ বেলা শেষে আমাদের শাইখুল ইসলামদের দীন বিক্রির মানসিকতার মুহাসাবা ও আত্মপর্যালোচনা করলে সমস্যা কোথায়? সবকিছুতে ইহুদী নাসারা না দেখে আমাদের নেতা, পাতি নেতা, হবু নেতাদের আচরণ-আখলাক, লোভ-লালসার জিহ্বাটা পরীক্ষা করে দেখলে সমস্যা কোথায়?

একুশ শতকের পৃথিবী তথ্য প্রযুক্তির পৃথিবী৷ মিডিয়ার পৃথিবী৷ প্রতিযোগিতার দুনিয়া৷ আমরা আমাদের তালেবে ইলমদের জন্য কওমীর বর্তমান নেতাজীরা কী রেখে যাচ্ছেন?

কোন আদর্শের পথে রেখে যাচ্ছেন? কোন পথে আপনারা পরিচালিত করছেন ঐতিহ্যের কওমী মাদরাসাগুলোকে৷ বালাকোট শামেলীর সৈনিকদের কোন পথে নিয়ে যাচ্ছেন কাণ্ডারী!

এই প্রজন্মের তরুণদের আবেগী ও জজবাতি না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে হবে৷ ভাবতে হবে আলেম হবার মানচিত্র নিয়ে৷ জানতে হবে আকাবির ও আসলাফের কর্মনীতি, উসূল, মানহাজ৷ জানতে হবে বিগত তিন শত বছরের উপমহাদেশের ইতিহাস৷ জানতে হবে ইসলামের সংগ্রামী সাধকদের কথা৷ পড়তে হবে তারিখে দাওয়াত ও আজিমত৷ পড়ার টেবিলে থাকতে হবে উলমায়ে হিন্দ কা শান্দার মাজি৷ পড়তে হবে আবে কাওসার, রুদে কাওসার, মাওজে কাওসার৷ পড়তে হবে নকশে দাওয়াম৷ মুতালায় থাকতে হবে তারীখে দারুল উলুম দেওবন্দ৷ আকাবির কা তাকওয়া৷ নাফহাতুল আম্বার৷১৭৫৭-২০২০ সালের উপমহাদেশের ইতিহাস না পড়লে প্রশ্ন ফাঁস হতেই থাকবে৷ সগৌরবে নিচু হাতে নিতে হবে খয়রাত৷ বরাদ্দ৷

সরকারি আমলাদের স্যার জপে জপে করতে হবে রুকু ও সিজদা৷ মুখে যতই কওমী বলেন আপনি কওমের কেউ না৷ আপনি খয়রাতখান৷
আপনি দারুল উলুমের চেতনায় নেই আর৷ আপনি খয়রতখান এখন৷ আপনার আগামী মীরজাফরের পরিণাম৷ আপনার আগামী অন্ধকার হে নেতা খয়রতখান৷

০৪.০৭.২০২০

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com