২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা সফর, ১৪৪২ হিজরী

কওমী মাদরাসায় খেদমত ও পেশা ভিন্ন হোক

ডাক দিয়ে যাই । লাবীব আব্দুল্লাহ

কওমী মাদরাসায় খেদমত ও পেশা ভিন্ন হোক

জুনাইদ হাসান৷ দারুল আরকাম বাহ্মণবাড়িয়া ও যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসায় পড়ালেখা করেছেন৷ দাওরায়ে হাদীস পড়েছেন৷ পিতা ইমাম খতীব ও শাইখুল হাদীস৷ মুফতী৷মাওলানা জুনাইদ নিজেও ইমাম ও কওমী মাদরাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক৷ আহমাদ ও মুবাশশিরের পিতা জুনাইদ৷ ঘরেও দাওরায়ে হাদীস পডুয়া বউ৷ শ্বশুর টাঙ্গাইলের তাবলিগী ঘরাণার আমীর সাহেব৷ তিনিও মুহতামিম৷ জুনাইেদের চার ভাই ও এক বোন সবাই কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসপডুয়া৷

শেরপুর পুরাতন বাস স্টেশনে তার দোকান৷ মুসলিম লাইব্রেরি৷ দরসি ও গাইরে দরসি কিতাবপত্র দোকানে৷

চক শ্লেটও বেচাকেনা হয়৷ দোকানে মৌসুমে বিক্রি লাখের উপর প্রতিদিন৷ টুকটাক বিক্রি বছরজুড়ো৷ মাদরাসায় অজিফা বাকি৷ মসজিদের বেতন পাবে কি না এই চিন্তা করতে হয় না৷

দোকানের আয়েই তিনি পরিবারের খরচ নির্বাহ করতে পারেন৷ শেরপুরে বাগরাকশায় বাসা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে থাকেন৷ দোকানে বিক্রির সহায়তাকারী রেখেছেন৷ তবে সরাসরি নিজেই হিসাব ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন৷

মেহমানদারিতে হাতখোলা৷ কাস্টমারবান্ধব আচরণ৷ করোনাকালে লকডাউনে ঘরবন্দী থাকলেও এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানে বসেন৷ যদিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাক্যটা এখন হাস্যকর লকডাউন খোলার পর৷

মাওলানা জুনাইদের শিক্ষকতা ও ইমামতির পাশাপাশি দোকানদারি করতে লজ্জাবোধ নেই৷ হালাল আয়ের জন্য তার মনে প্রশান্তি রয়েছে৷ চোখে স্বপ্ন৷

লেখা শেষে

রহস্যময় বিষয় তার ভাড়া বাসায় আম, লাউ, বেগুন, ডাটা নানা রকমের ফল ও ফুলের গাছের ছায়ায় আমি প্রায় ২৫০ ঘণ্টা কাটিয়েছি! তিন বেলা গোশত রুটি ও ভাত৷ বিকেলে বাহারি নাস্তা৷ বাসার টেবিলে নানা রকমের বইপত্রে কেটেছে আমার সময়৷ তার গুণী বউ আরও কী কী খাওয়াবে প্রতিদিন নতুন নতুন ভাবনা ভাবতো৷ স্বামী স্ত্রী মিলে এমন আদর আপ্যায়নে খাওয়ানোর ষড়যন্ত্র!

কেন এই রহস্য তা বললে মাওলানা জুনাইদ হাসবে বা লজ্জিত হবে৷ তার পড়ালেখা ও বিয়ে আমার পরামর্শে হয়েছে! এই দুষ্ট ও মিষ্টি ছেলে যে মাওলানা ও দোকানদারি করবে তা আমার জানা ছিলো না৷

কষ্ট

মাওলানা জুনাইদের আম্মু ৪ মাস ১০ দিনের ইদ্দত পালন করছেন৷ জুনাইদের আব্বু নেই বিগত চার মাস থেকে৷ তিনি ওপারে৷ আরেক দুনিয়ায়৷ দোকানে বসে পিতার কথা স্মৃতিতে এলে সে আনমনা ও অশ্রুসিক্ত হয়৷ এই দোকান থেকে তার পিতাকে পান ও চা পান করাতো আনন্দে৷
আজ আশপাশে কত চায়ের দোকান৷ পানের দোকান কিন্তু নেই তারা বাবা৷ আব্বু৷
কেউ ডাকে না, ওই জুনাইদ আযান হইছে দোকান বন্ধ কর…৷

তবে সে সেই গরজদার আওয়াজ না শোনতে পেলেও দোকান বন্ধ রাখে নামাযের ডাকে৷ জুনাইদে আব্বু স্বন্দীপের পীর আল্লামা ইহসানুল হক রহ.-এর অন্যতম খলীফা বা মুজায ছিলেন৷ পীর৷ পিতা ৫০ বছরজুড়ে মুহাদ্দিস৷ ৩৫ বছরের ইমাম খতীব৷ পুত্রকে দোকানে দেখে তিনি খুশী হতেন এবং হালালের প্রতি উৎসাহিত করতেন৷

কওমী মাদরাসার নবীন ফারেগীন বা এই সময়ে কওমীতে আমরা যারা শিক্ষকতা করছি আমাদের দীনি খেদমত, দীনি ইলমের খেদমত ও হিরফা বা পেশা ভিন্ন করার চিন্তা করতে পারি৷ করোনা সংকটে বিধ্বস্ত অর্থব্যবস্থা আমাদেরকে ডাকছে নতুন চিন্তা ভাবনা করতে৷ জীবন ও জীবিকায় হালাল আয় উপার্জনের বিশাল প্রভাব এবং আত্মমর্যাদার জন্য প্রয়োজন বিকল্প পথ৷ পৃথক হোক আমাদের দীনি খেদমত ও পেশা৷ আমরা সোনালী যুগে আলেমদের পেশা কী ছিলো একটু নজর ফেরাতে পারি৷ ফিরে দেখা যেতে পারে অতীতে আকাবির আসলাফের হিরফা ও পেশার বৈচিত্র্যময় আয়োজনে৷

লেখক : শিক্ষক ও কথাসাহিত্যিক

01

পুস্তক বিক্রয়কেন্দ্রে মাওলানা জুনাইদ, শেরপুর

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com