১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

কওমী মাদরাসায় বিজ্ঞান শাখা খোলা হোক

কওমী মাদরাসায় বিজ্ঞান শাখা খোলা হোক

লাবীব আব্দুল্লাহ :: এই যুগ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আবিস্কারের৷ মানুষ ঘোরছে যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে৷ মানুষ ছুটছে আবিস্কারের নেশায় গভীর সাগরে৷ উড়ছে নীলিমায়৷ যাচ্ছে গ্রহ থেকে গ্রহে৷ মঙ্গল থেকে প্লটুতে৷ চাঁদের অভিযান তো হয়েছে ষাটের দশকে৷ এখন পাথ ফাইন্ডারে যাচ্ছে মঙ্গলে৷ পৃথিবী, মহাশূন্য, আকাশ, গ্রহ, নক্ষত্র গ্লাক্সি মিল্কওয়ে সব আল্লাহর সৃষ্টির অপার বিস্ময়৷ কুদরতের কারিশমা৷ তারাভরা আকাশে কুদরত আল্লার৷ জলাধার মেঘমালা আল্লাহর মহিমা৷ খুঁটিবিহীন আকাশ শান আল্লাহর৷ সম্প্রসারশীল গ্রহুলো আল্লাহর মারেফাতের প্রতীক৷

সুজলা সুফলা সবুজ শ্যামল পৃথিবীর ভূমি৷ বর্ণীল দুনিয়া৷ নদী, নালা, খাল, বিল, সাগর, মহাসাগর সব আল্লাহর সৃষ্টিবৈচিত্র৷ সাগরের তিমি মনি মুক্তা সব আল্লাহর সৃষ্টি৷ আকাশ৷ আকাশে যা আছে৷ জমিন৷ জমিনে যা আছে৷ মহাশূন্য৷ মহাশূন্য যা আছে৷ এই সব আল্লাহর মুসাওবির চিত্রকরের নিদর্শণ৷ তিনি মহান কারিগর৷

এক সময় মুসলিমদের বিজয়ের যুগ ছিলো৷ ইবনে সিনা, ইবনুল হাইসামী, আলবিরুনী, খাইয়ামরা আবিস্কার করতেন৷ বাগদাদে ছিলো বিজ্ঞানাগার৷ মানমন্দির৷ ইবনে খালদুন, ইবনে হাইয়ানরা গবেষণা করে পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করেছেন৷ মুসলিমদের মধ্যযুগ নেই৷ অন্ধকার যুগ নেই৷

ইউরোপের মধ্যযোগীয় বিজ্ঞানী হত্যার অধ্যায় আছে৷ গীর্জা বনাম বিজ্ঞানের লড়াই থাকলেও মসজিদ বনাম বিজ্ঞানের কোনো কালেই লড়াই ছিলো না৷ আজও নেই৷ পাদ্রী বনাম বিজ্ঞানী লড়াই থাকলেও আলেম বনাম বিজ্ঞানীর কোনো কালেই লড়াই নেই৷ সভ্যতার নির্মাতা মুসলিম৷ ইউরোপের উস্তায স্পেন৷ বাদদাদ পৃথিবীর উস্তাদ৷
কিন্তু মুসলিমদের সেই দিন আজ আর নেই৷ এখন আমরা ভোক্তা অমুসলিমরা উদ্যোক্তা৷ আমরা নানা অস্ত্রের গিনিপিগ৷ আমাদের বাদদাদ কান্না করে৷ আমাদের স্পেন হাহাকার করে৷ আমাদের দিল্লির কুতুব মিনার চিৎকার করে৷ আমরা আমাদের গৌরবময় অতীতের কথা পড়ারএ সুযোগ পাই না৷ আফগান, কাশ্মির, আরাকান, চেচনিয়া, বসনিয়া, মিন্দানাও, পূর্বতীমুর, দক্ষিন সুদান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়ামেন, লিবিয়া, তিওনিসিয়া, মিসর এবং ফিলিস্তিন মিডিয়ার খোরাক৷ বোমা, হত্যা, আত্মঘাতি,মসজিদ মাদরাসায় রক্তের দাগ৷ আমরাদের বর্তমান উদ্বাস্তুর ইতিহাস৷ তাঁবুতে বসবাসের বর্তমান৷

কেন এই অবস্থা? এর জবাব জানতে হবে৷ প্রস্তুতি নিতে হবে আগামী দিনে৷ আমাদের আবার খোলাফায়ে রাশেদার যুগের স্বপ্ন দেখতে হবে৷ আবিস্কারের নেশায় ছুটতে হবে৷ মুসলিম উম্মাহ যেনে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারে তা নিয়ে ভাবতে হবে৷ কুরআন হাদীসের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে৷ এরও আগে কুরআন হাদীস যথাযথভাবে বুঝতে হবে৷ মুসলিম সমাজে যারা বিজ্ঞান বুঝে তারা কুরআন পড়তেই পারেনা৷ অধিকাংশ৷ যারা কুরআন নিয়ে সারা জীবন কাটায় তাদের অধিকাংশ বিজ্ঞানের খবর জানে না৷

কেন এই দ্বীপ? কেন এই দূরত্ব? কুরআনে ভ্রণতত্ত্ব, মহাকাশ বিজ্ঞান, ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞান, প্রানী বিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞানসহ নানা বিজ্ঞানের শাখা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে৷ যারা কুরআন বুঝেন তারা যদি কুরআন হাদীসে বর্ণিত বিজ্ঞানময় বিষয়গুলো বিশ্ব দরবারে তোলে ধরতে পারেন তাহলে দাওয়াহর নতুন দিগন্ত খোলবে৷

নিউটনের আপেক্ষিক তত্ত্ব তো আবিস্কার৷ আপেক্ষিকতা তো সে দেয় নি৷ বিজ্ঞানীরা আবিস্কারক স্রষ্টা নয়৷ পৃথিবীকে মহান স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে দাওয়াত দিতে হবে৷

প্রস্তাবনা: কুরআন ও সুন্নাহতে বিজ্ঞান বিষয়ক আয়াত ও হাদীসগুলো পৃথকভাবে পড়ানো, গবেষণা, গবেষণালব্দ বিষয়ে লেখালেখিও আলোচনা করার জন্য এক ঝাক আলেম তৈয়ারের উদ্দেশ্যে মাদরাসায় বিজ্ঞান শাখা খোলা যেতে পারে৷ সব মাদরাসায় নয়৷ যাদের সামর্থ আছে এবং মন আছে তারা উদ্যোগ নিবেন৷ এবং কওমী মাদরাসার সেরা মেধাবীরা কমপক্ষে পাঁচ বছর পড়া লেখা করবে বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে৷

নির্বাচিত মেধাবীদের সম্মানজনক শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে৷ সুরা ফাতেহা থেকে সুরা নাস পর্যন্ত তারা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে গবেষণা করবে৷ পড়বে, লিখবে এবং আলোচনা করবে৷ মনে রাখতে হবে বিজ্ঞানের ভাষা পরিভাষা ইংলিশ৷

লেখক : কলামিস্ট ও মাদরাসা শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com