২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

কওমী সনদ আমার অধিকার

পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : কওমী সনদ আমার অধিকার। সরকারের দয়া নয়। আমরা যে সনদের স্বীকৃতি পেয়েছি, এটা নাগরিক হিসাবে আমাদের প্রাপ্য ছিল। সে কারণে সরকার আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করেছে।

অনেকেই সরকারের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমীয়া’ বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন না। এটা একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। আবার আরেক দিকে বিষয়টা হাস্যকরও বলা যায়। সরকারের অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগ করব, আর পরীক্ষা দেওয়ার বেলায় আমরা খুব বুজুর্গি দেখাব এটা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় বহন করে। এটা কোন শিক্ষার্থীর আখলাক নয়।

আপনি হজে যাওয়ার সময় পাসপোর্ট কার থেকে নিবেন? পাসপোর্ট তো শেখ হাসিনার সরকার দিচ্ছে। তাহলে কি হজে যাওয়া বন্ধ করে দিবেন? আছে কেউ এমন ব্যক্তি?

আপনি ভোটার আইডি কার্ড কোথা থেকে নিবেন? সেটাও তো শেখ হাসিনা সরকার দিচ্ছে। সুতরাং ভোটার আইডি কার্ড নেওয়া কি বন্ধ করবেন? আপনি কি এদেশের নাগরিক থাকবেন না?

এরকমই কওমী শিক্ষা সনদ, এটা নাগরিক অধিকার। যেটা সরকার আমাদের দিয়েছে। এখন যে সরকারই আসুক, এটাতো আর ব্যতিক্রম হবে না। এটা আমাদের প্রাপ্য। বুঝে-শুনে কথা বলা উচিত। বিশেষ করে হাটহাজারীর মত একটা দেশ সেরা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের এমন আহাম্মুকি সিদ্ধান্ত আমরা আশা করি না। আমরা হাটহাজারীকে অনেক উর্ধের মনে করি। তাদের দ্বারা এমন কাজ হয়, এরকম খামখেয়ালীপনা ঘোষণা আসে, তাহলে সেটা বড় দুঃখজনক।

আচ্ছা, হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা কি এখন উস্তাদদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে? কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের থেকে তো এমন কোন আওয়াজ আসার কথা নয়। দুনিয়ার সকল প্রতিষ্ঠানের এক ভাব আর কওমী অঙ্গনের আরেক ভাব। কওমী মাদ্রাসা হলো ব্যতিক্রমধর্মী এক প্রতিষ্ঠান। এখানে ছাত্রদের আদব-আখলাক শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে কোন বেয়াদব পাওয়া যায় না।

বড় দুঃখের বিষয়, কওমী মাদ্রাসার মধ্যে মনে হয় এখন কলেজ-ভার্সিটির বাতাস বয়ে যাচ্ছে।যেটা কারো কাম্য নয়। কলেজ- ভার্সিটির ছাত্রদের মত ক্লাস বর্জন, পরীক্ষা বর্জন, এমনি ভাবে শিক্ষকের কামরা ভাংচুর, কামরার আসবাব পত্র বিনষ্ট করণ, শিক্ষকদের লাঞ্চিত-অপমানিত করা, এগুলো এখন দেখি কওমীতে শুরু হয়েছে।

হুবহু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আখলাকের সাথে মিলে যাচ্ছে এখন। কয়েকমাস আগে কি অঘটন ঘটেছিল হাটহাজারীতে। উস্তাদদের সাথে কিরুপ আচরণ করা হয়েছিল, সেটা কিন্তু কারো অজানা নয়। আবার এখন তারা পরীক্ষা বর্জন করতে চায়। বড় আফসোস! কওমীতে এখন পুরো সেই নালায়েক ছাত্রদের মত অবস্তা দাঁড়িয়েছে।

তাই আসুন! পরীক্ষা বর্জন নয়। কওমী মাদ্রাসার ইতিহাস-ঐতিহ্য হলো, উস্তাদগণের অনুগত হওয়া। আমরা উস্তাদগণের স্বরনাপন্ন হই। তাদের শ্রদ্ধা করি। আসন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা, ক্লাশে না বসা, উস্তাদদের কথা না মানা, এটা কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্রদের থেকে এমন কাজ কেউ আশা করে না। আপনারা যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা থেকে ফিরে আসুন! লেখাপড়ায় মন দিন। আল্লাহ সকলকে কামিয়াব করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com