২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং , ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

করোনা; ইন্দোনেশিয়ায় তরুণরা আগে টিকা পাবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মারণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের যে সব দেশ টিকা দেওয়া শুরু করেছে তারা সবাই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটিতে সবার আগে তরুণদের টিকা দেওয়া হবে। চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেকের তৈরি করোনাভ্যাক টিকাটিকে অনুমোদন দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে টিকা কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। এ ধাপের কার্যক্রম আগামী মার্চের শেষ পর্যন্ত চলবে। প্রথম ধাপে ১৩ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ১৭ লাখ ৪০ হাজার সরকারি চাকরিজীবী যেমন- পুলিশ, সেনাসদস্য, শিক্ষক ও আমলাদের টিকা দেওয়া হবে। এরপর দেওয়া হবে কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্কদের।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. নাদিয়া উইকেকো বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় প্রবীণদের পরিবর্তে কর্মজীবী জনগোষ্ঠী অর্থাৎ ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের আগে টিকার আওতায় আনা হবে, কারণ আমরা প্রবীণদের ওপর সিনোভ্যাকের টিকার তৃতীয় ট্রায়াল এখনো সম্পন্ন করিনি। তিনি আরো বলেন, ষাট বছরের বেশি বয়স্কদের ওপর টিকাটি নিরাপদ কিনা তা দেখতে আমরা এখনো ইন্দোনেশিয়ার ওষুধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিপিওএম) রিভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করছি।

ইন্দোশেনিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে দেশটির অনেকেই। বালি দ্বীপের অধিবাসী ৫৬ বছর বয়সী পুতু বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় অধিকাংশ প্রবীণরাই বাসায় থাকেন, তাই কর্মজীবীদের চেয়ে তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। অল্প বয়সীরা যদি আগে টিকা পায় তাহলে প্রবীণরা তাদের সঙ্গে নিরাপদে থাকতে পারবে।

তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক কিম মালহোল্যান্ড বলেন, আমরা জানি যে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যে টিকা নেওয়া প্রবীণ ব্যক্তিরা তরুণদের মতোই ইতিবাচক ফলাফল দেখিয়েছে। তাই ইন্দোনেশিয়ায় প্রবীণদের ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে তাদের টিকা দেওয়া হবে না এই যুক্তিটি সঠিক নয়।

তিনি আরো বলেন, আমার ইন্দোনেশীয় সহকর্মীরা যা বলছে তা থেকে আমার মনে হচ্ছে, দেশটির সরকার হয়তো তরুণ জনগোষ্ঠীদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের চেষ্টা করছে, কারণ এদের মাধ্যমেই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।

চিকিৎসা বিষয়ক অন্যতম প্রধান জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা, বিশেষ করে যাদের শারীরিক অবস্থা ভঙ্গুর বা কেয়ার ফ্যাসিলিটিতে দীর্ঘ দিন ধরে রয়েছেন তারা কোভিড-১৯ এ বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যেও এই সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। দেশটিতে ৬০ বছরের বেশি বয়স্করা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ, কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এরাই ৩৯ শতাংশ।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার সরকার অ্যাস্ট্রাজেনেকা, নোভাভ্যাক্স, ফাইজার প্রভৃতি টিকার কয়েক কোটি ডোজ অর্ডার দিয়ে রেখেছে। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিজেদের টিকা তৈরি করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। তবে এখনো পর্যন্ত চীনের সিনোভ্যাকের টিকাটিই ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com