৫ই জুলাই, ২০২০ ইং , ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

করোনার ছুটিতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা; দেওবন্দের ফতোয়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত প্রায় তিন মাস থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামী আগস্ট পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলেও নতুন ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই অবস্থায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ তেমন কোনো সমস্যায় না পড়লেও দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।

সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছেন কওমী মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীগণ। রমযানের আগে বা রমযান পর্যন্ত কিছু বেতন-ভাতা তারা পেয়েছেন বটে। কিন্তু রমযান পরবর্তী সময়ে কিছু পাওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে হাফেয ও আলেম বলে সমাজে একটা সম্মানজনক অবস্থান থাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য সাধারণ কোনো পথও বেছে নিতে পারছেন না অনেকে, আবার ধারদেনা করেও চলতে পারছেন না।

অপরদিকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত। সাধারণ জনগণের স্বেচ্ছা প্রদত্ত মাসিক ও বার্ষিক অনুদান এবং ছাত্রদের টিউশন ফির উপর নির্ভরশীল থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু লকডাউনের কারণে এবার তারও তেমন কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের এ সময়ের বেতন-ভাতা দিতে হবে কি না? দিতে হলে নির্ধারিত পূর্ণ বেতনই দিতে হবে নাকি আংশিক দিলেও চলবে?

এ বিষয়ে গত ২০ জুন ২০২০ইং তারিখে দারুল উলূম দেওবন্দের দারুল ইফতা থেকে নিম্নোক্ত ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে।

ফতোয়াটির বাংলা অনুবাদ নিম্নরূপ: ‘শিক্ষক-কর্মচারীগণ মাদরাসার নিয়মিত স্থায়ী চাকুরীজীবী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে তারা স্বাভাবিকভাবে ছুটির সময়ের বেতনের হক্বদার হয়ে থাকেন। অনুরূপভাবে লকডাউনের কারণে বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর যে বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে, যার কারণেই মূলত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ মাদরাসায় কাজ করতে পারছেন না তাই তাদের চাকুরীর চুক্তি বহাল থাকায় তারা নির্ধারিত বেতনের হক্বদার হবেন।’

‘অবশ্য (বর্তমান পরিস্থিতিতে) মাস শেষ হওয়া মাত্রই কর্তৃপক্ষের নিকট বেতন দাবি করবে না; বরং মাদরাসায় টাকার ব্যবস্থা হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিবে। যাতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য সবার বেতন পরিশোধ করার সুযোগ হয় এবং সহজ হয়।’

‘তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যদি টাকা-পয়সার অভাবের দরুন পূর্বেই শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদানের ঘোষণা দিয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের পরবর্তী দিনগুলোর বেতন-ভাতা মাদরাসার উপর আবশ্যক হবে না। কেননা চাকুরিদাতার জন্য গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে চাকুরীজীবীকে তার চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রদান করা বৈধ।’

– ফতোয়া বিভাগ, দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত, ২০ জুন ২০২০, ফতোয়া নং : ১৭৯৫৬৪

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com