২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

করোনায়ও এগিয়ে চলেছে মাতারবাড়ি প্রকল্প

করোনায়ও এগিয়ে চলেছে মাতারবাড়ি প্রকল্প

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) থাবায় বিশ্বজুড়ে যখন লকডাউনের পরিকল্পনা চলছিল, এমনকি অধিকাংশ দেশে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনো বন্ধ হয়নি মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। টং টং লোহার শব্দে সদা জাগ্রত ছিল কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে অবস্থিত এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।

তবে করোনাকালের প্রথমদিকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ইস্যুগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেগুলো এখনো চলমান। রয়েছে আইসোলেশন সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এর মাঝেও শতাধিক কর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। যাদের সবাই এখন সুস্থ।

প্রকল্পের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শতভাগ শ্রমিকের জন্য সেফটি ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হয় এখানে। ইউনিফর্ম, নির্দিষ্ট গ্লাস, হেলমেট এবং প্রয়োজন মতো সেফটি বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক। বিদেশিরা দেশিদের ইশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন কাজ, কেউ রাখছেন দোভাষি।

দৈনিক ভিত্তিতে এ প্রকল্পে নিয়োজিত হাসান নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের তাপমাত্রা মাপা হয়। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে কাজে ফেরানো হয়। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ কাজ করেছি। এতে বাড়তি কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।’

প্রকল্পে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের শতাধিক সহকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অধিকাংশই এখানে চিকিৎসা করিয়ে ভালো হয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় কাউকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এখন শুধু একজন আক্রান্ত আছেন, তিনিও ভালোর দিকে।’

হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে একদিনের জন্যও কাজ বন্ধ হয়নি। আমরা বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই আমাদের কাজ সম্পন্ন করবো। এ প্রত্যাশায় প্রথম দিন থেকেই কাজ চলমান রেখেছি।’

কনস্ট্রাকশনে নিয়োজিত এক কর্মী বলেন, ‘যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় আমাদের কোনো সমস্যা এখনো দেখা যায়নি। মাস্ক পরে কাজ করছি, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে। আবার মাঝে মাঝেই পরীক্ষা করা হয় আমাদের, এতে বলা যায় নিরাপদে কাজ করছি আমরা।’

এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ প্রকল্প এলাকার ভেতরে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হেক্সিসল দেই। তাপমাত্রা মাপা হয়, কারও তাপমাত্রা বেশি হলেই তাকে অ্যালাও করি না কাজের জন্য। আগে তার স্বাস্থ্যবিধি দেখি, তাকে প্রোপার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি, সুস্থ হলে কাজে ফেরাই।’

এক শ্রমিক বলেন, ‘সবার জন্য সেফটি ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হয় এখানে। আমি দৈনিক হাজিরায় কাজ করছি, আমাকে যেমন নিরাপত্তা দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, অন্য কর্মকর্তাও একই ব্যবস্থায় কাজ করছেন। বিদেশিরা দেশিদের ইশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন কাজ, কথা না বুঝলে দোভাষি বলে দেন। এখানে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম, গ্লাস, হেলমেট এবং প্রয়োজন মতো সেফটি বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক।’

মাতারবাড়ি আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে রাত-দিন কাজ চলছে। করোনার মধ্যেও কাজ থেমে থাকেনি। কাজ হয়েছে বলেই পোর্ট চালু হয়ে গেছে। এক সময় প্রকল্পের মধ্যে পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেছেন। কিছু কিছু কাজ শেষ হয়েছে, যে কারণে এখন প্রকল্পে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা কিছু কম। এখন প্রায় সাড়ে চার হাজারের মতো কর্মী কাজ করছেন।’

প্রকল্প সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট খরচ হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। বাকি সাত হাজার ৪৫ কোটি দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও সিপিজিসিবিএল। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই বিদ্যুতের প্রকল্পে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট এবং ওই বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com