২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

করোনায় সত্যি সত্যিই পুলিশ যখন মানবিক

করোনায় সত্যি সত্যিই পুলিশ যখন মানবিক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সব মানুষ এক রকম নয়। সব পুলিশও একরকম নয়। মানুষবান্ধব পুলিশও ডিউটি করছে জীবন বাজি রেখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবখানে সে চিত্রও এখন ওঠে এসেছে সবার সামনে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে করোনা প্রতিরোধে মাঠে কাজ শুরু সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশ। গত ১১ এপ্রিল সিলেটে লকডাউন ঘোষণা করা হলে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন মধ্য আয়ের শ্রমজীবী মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। জেলা ও মহানগর পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে একজন সদস্য পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্য সহয়তা কার্যক্রম শুরু করেন।

করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এমনকি জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন উপজেলায় উপজেলায় গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বহন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। নগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াও একইভাবে মহানগর পুলিশের ছয় থানায় নিজে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন। এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত আছে। অতীতে এমন মানবিক পুলিশকে দেখেননি সিলেটের মানুষ।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান নিজেই ত্রাণ নিয়ে অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। অথচ চরম ঝুঁকির মধ্যে বিরাজমান হবিগঞ্জ জেলা শহর।

চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস এখন সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও।

ইতোমধ্যে আক্রান্ত দেশগুলোর করোনা ভাইরাস মোকাবেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। সকল ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে কার্যত জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে গত ১১ এপ্রিল থেকে সিলেট জেলা লকডাউন রয়েছে। পুলিশের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনায় মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, হোম কোয়েরেন্টাইন নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানোর মত কাজগুলোও করতে হচ্ছে পুলিশকে। এর বাইরে মানুষের মাঝে সবচেয়ে তাক লাগানো বিষয় হচ্ছে পুলিশ কিছু মানুষের দারে দারে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি।

সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর থেকে এর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে সিলেট মহানগর পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নগরের জনসাধারণ বা জনগণকে করোনা সতর্কতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সর্বোচ্চ প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছে। নগরের প্রতিটি অলিতে গলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি হ্যান্ড মাইক দিয়ে মানুষকে সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com