৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৯শে রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

করোনা; ধর্ম পালনে মুসলিমদের প্রতি জমিয়তে উলামা হিন্দের বিশেষ নির্দেশনা

করোনা; ধর্ম পালনে মুসলিমদের প্রতি জমিয়তে উলামা হিন্দের বিশেষ নির্দেশনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। করোনা ভাইরাসের থাবায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্ব। অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারতেও ঢুকে পড়েছে এই মারণ রোগ। এজন্য করোনা দিনগুলোতে সম্মেলিত শরয়ী বিধান পালনে জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা কারী সাইয়্যিদ উসমান মানসুরপুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী-এর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি সোমবার (২৩ মার্চ) পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমে। বিবৃতির অনুবাদ ও দিক-নির্দেশনা পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরো হলো—

বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস নামে যে মহামারি আগুনের মত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। বৈশ্বিক এ মহামারির মুহূর্তে বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাথে সাথে মনে প্রাণে এই বিশ্বাস রাখতে হবে, আল্লাহর হুকুম ব্যতিত কোন রোগ কাউকে স্পর্শ করতে পারে না। এতদসত্ত্বেও ইসলামি আকিদা হেফাজতের সাথে সাথে মানবজীবনকে রক্ষার ব্যাপারটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত বা আক্রান্তের আশংকা আছে কিংবা তার কারণে অন্য কেউ অসুস্থ হতে পারে, তাদের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে নিজেকে ও অন্যদেরকে করোনার ব্যাধি থেকে বাঁচানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী এই ভাইরাস একে অপরের সাথে থাকা, মুসাফাহা করা, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ করা কোন বস্তু অন্যের স্পর্শ করার দ্বারাও ছড়াতে পারে। যেখানে লোকসমাগম হয় সেখানে আরো দ্রুত তা ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইবাদাতের গুরুত্ব ও মানব জীবনের হেফাজতের লক্ষ্যে শরয়ী বিধান সামনে রেখে কতিপয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সবাই লক্ষ রাখবেন।

১. রাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা ভাইরাস (কভিড -১৯) থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা মূলক যে ব্যবস্থাপত্রের পরামর্শ দিয়েছে, তাকে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা না করে শরীয়তের সিমায় থেকে তা পালনের প্রতি খেয়াল করা।

২. অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা।

৩. শরীর ও ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।

৪. রোগাক্রান্ত সন্দেহ ব্যক্তির সাথে ওঠা-বসার ব্যাপারে সচেতন হওয়া।

৫. মসজিদে আজান ও ইকামত হবে ঠিক, তবে মসজিদে শুধু ফরজ আদায় করা। সুন্নত ও নফল ঘরে আদায় করা।

৬. মসজিদে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং আবাদ করা। এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা।

৭. জুমার নামাজ সংক্ষিপ্ত পরিসরে আদায় করা। নামাজ ও খুতবা এতটুকু পরিমাণে আদায় করা যতটুকু ফুকাহায়ে কেরাম ওয়াজিব বলেছেন।

৮. যদি কোথাও কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ভাবে আইনী নিষেধাজ্ঞা থাকে সে ক্ষেত্রে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদের দ্বারা জামাত আদায় করে নেওয়া। তবে জুমার নামাজে এই পরিমাণ মুসল্লী থাকা যাদের দ্বারা ফুকাহায়ে কেরামের মতে জুমার নামাজ আদায় হয়ে যায়। আর যারা রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবে না, তাদের জন্য জোহরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

৯. প্রত্যেক ব্যক্তিই আপন আপন জায়গা থেকে তওবা ইস্তিগফার, জিকির ও দোয়া করা। এসময় অশ্লীল অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থেকে নেক ও কল্যাণকর কাজে মনোনিবেশ করা।

১০. দান সদকার প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হবে। মহল্লা ও প্রতিবেশীদের মাঝে যারা গরীব, অসহায়, অসচ্ছল ও রোজগারে বিচলিত তাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com