৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

করোনা ভাইরাস : সতর্কতায় বাঁচতে পারে মানুষ

করোনা ভাইরাস
সতর্কতায় বাঁচতে পারে মানুষ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘরে-বাইরে এমন কি বিশ^জুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ দেশের মানুষও ঝুঁকির মধ্যেই আছে। যেকোনো সময় ভয়াবহ এই রোগে আক্রান্ত করতে পারে বাংলাদেশের নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষকে। এখনই সবধরনের সতর্ক হয়ে সবাইকে চলা উচিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমরা জানি, দুই মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা নভেল করোনাভাইরাস এখন বিশ্বের মানুষের কাছে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। একেবারেই অচেনা এ রোগটির কারণে অনেকটাই থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকাও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য জানিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক তৈরি না হলেও এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কভিড-১৯ রোগের সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পাঁচজনকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। নওগাঁয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সিঙ্গাপুরফেরত এক বাংলাদেশি যুবক নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু করে আইইডিসিআর।

আবার এটাও বোধ হয় ঠিক যে সরকারের উদ্যোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে যে আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে তা শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু ব্যবস্থা মাত্র। পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামো, কারিগরি ও পরিবেশগত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে কোনো হাসপাতালেরই প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মানের আইসোলেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার সক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। আশার কথা এই যে সতর্কতা বা ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতিতে কোনো রকম শৈথিল্য বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দেখায়নি।

কভিড-১৯ অনেক ভাইরাসের চেয়ে কম হারে মৃত্যু ঘটালেও আক্রান্ত বেশি থাকায় মানুষ এটিকে বেশি ভয় পাচ্ছে। এই ভয়ের পরিবর্তে মানুষ যদি অধিকতর সচেতন থাকে তাহলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয় বলে মনে করছেন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে যদি এটি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণের সুযোগ না পায় তাহলে এটি ছড়াবে না। আবার দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি শনাক্ত করা গেলে ব্যবস্থাপনাকাজ অনেক সহজ হবে।

সাধারণ মানুষকে সান্ত¡না দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত আতঙ্কের কিছু নেই। কাজেই আমাদের ভীতি কাটিয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। মেনে চলতে হবে বিশষজ্ঞদের পরামর্শ। অন্যদিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোকে আরো সক্ষম করে তুলতে হবে। যদি দেশে করোনাভাইরাস দেখা দেয় তখন পরিস্থিতি কতটা সামাল দেওয়া যাবে তা নিয়ে কোনো সংশয় যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, পর্যাপ্ত মান রক্ষা করে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com