৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কাম্য

কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কাম্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একটা ভুল অনেক ভুলের পথ খোলে দেয়। চামড়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রপ্তানি পণ্য। সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবের কারণে চামড়া রপ্তানি হয় না বলেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। আমরা দেখছি, কোরবানির চামড়া নিয়ে ভানুমতির খেল চলছে কয়েক বছর ধরে। অভিযোগ উঠেছে, পানির দামে চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে গত কয়েক বছর ধরে অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। পরিণতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দামের চেয়ে দশ শতাংশ কিংবা তার চেয়ে কম মূল্যে তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কোরবানি যারা করেন তাদের সিংহভাগই চামড়া দান করেন এতিমখানা সম্বলিত মাদরাসায়।

এতিমদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমরা জানি, চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে এতিম ও গরিব শিক্ষার্থীদের সারা বছরের পড়াশোনা, খাওয়া ও অন্যান্য খরচ চলে। চামড়ার দামে ধস নামলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসব ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোরবানির আগে প্রতি বছর চামড়া কেনার জন্য সরকারি নির্দেশনায় ব্যাংকগুলো ট্যানারিগুলোকে ঋণ দেয়। ট্যানারিগুলোর একাংশ এ ঋণ আত্মসাৎ করাকে কর্তব্য হিসেবে বেছে নেয়।

ট্যানারিগুলো চামড়া কেনে আড়তদারদের কাছ থেকে। কিন্তু আড়তদারদের অর্থ সময়মতো শোধ না করা তাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আড়তদারদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ট্যানারি মালিকদের কাছে ১৫৩ কোটি টাকা পাবেন। কোরবানিকে সামনে রেখে সরকার ট্যানারিগুলোকে চামড়া কেনার জন্য ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও ব্যাংকগুলো এ টাকা ছাড়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও চামড়ার দামে ধস নামতে পারে এমন আশঙ্কা দানা বেঁধে উঠছে। চামড়া নিয়ে যে সাংবাৎসরিক অপখেলা চলছে তা বন্ধে কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রত্যাহার করা দরকার। বাংলাদেশের চামড়ার এক বড় অংশ রপ্তানি হয় চীনে। চীন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীনে চামড়া কতটা রপ্তানি করা যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাণিজ্য যুদ্ধ ও করোনার কারণে গত বছরের ৩০০ কোটি টাকার চামড়া স্টকলক হয়ে আছে।

এ অবস্থায় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যের দামে ধস নামার আশঙ্কা অনেকাংশে ঠেকানো যাবে বলেই আমরা মনে করি। সরকার সঠিক সময়ে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে তবেই চামড়ার ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হবে এতিমখানার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com