মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

কাগজকল কর্ণফুলী রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে

মিল-কারখানায় দেশ এগিয়ে যায়

কাগজকল কর্ণফুলী রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: কাগজের মধ্যে কর্ণফুলী বিখ্যাত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অস্তিত্বের সংকটে কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিল। সব অভিযোগ পাশ কাটিয়ে মিল পরিচালনায় যে কোনো ধরনের গুজবকে লোকসান থেকে বাঁচানো উচিত। একটা মিল বাঁচানো মানে বাংলাদেশকেই বাঁচানোর মতো। এ ক্ষেত্রে সরকার যেমন দক্ষতার পরিচয় দেবে তেমনি মিলের শ্রমিকদেরও দায়িত্ব আছে। এক সময়ের এশিয়ার বিখ্যাত সর্ববৃহৎ কাগজকল কর্ণফুলী পেপার এখন অস্তিত্বের সংকটে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) বন্ধে বেসরকারি কাগজকল মালিকদের চক্রান্ত দেখছেন অবসরে যাওয়া শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের সন্তানরা।

অভিযোগ উঠেছে, বেসরকারি কাগজকল মালিকদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি বন্ধের চক্রান্তে লিপ্ত। অসাধু এই ব্যবসায়িরা বাংলাদেশ রেলয়ের মতোই এই কাগজ মিলটিকেও সিলগালার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। এটি খুবই দুঃখজনক ও ভয়াবহ সংবাদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব, আধুনিক মেশিনারি সংযোজন না করা, দক্ষ শ্রমিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যত্র বদলি করা, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কেপিএম ধীরে ধীরে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, সুইডেনের কারিগরি সহায়তায় ১৯৫৩ সালে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কেপিএম প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী এ কাগজকলের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩০ হাজার টন। ৩৪ হাজার টন কাগজ উৎপাদনের রেকর্ডও রয়েছে এ কারখানার। প্রতিষ্ঠার পর কারখানা থেকে দৈনিক ১৩০ থেকে ১৫০ টন কাগজ উৎপাদন হলেও বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ টনে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র পাল্প উৎপাদন এবং লাভজনক কনভার্টিং শাখা।

বলার অপেক্ষা রাখে না কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পেছনে আছে ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা এবং অযোগ্যতা। যার পরিণতিতে কাগজকলের ভাগ্যে লোকসান নিয়তির লিখনে পরিণত হয়। দেশে বেসরকারি খাতে কাগজকল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। গত তিন যুগে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শতাধিক কাগজকল। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ কাগজকল স্থাপিত হওয়ায় কাগজকলগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশই ব্যবহার করতে পারছে না। কেপিএম বন্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সরকার তা খতিয়ে দেখবে এবং জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই আমরা মনে করি।

অন্যথায় দেশের অসাধু ব্যবসায়িরা আরও বেশি তৎপর হবে দেশের চলমান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে। কোনো এক জায়গায় তারা সফল হলে অন্য সবখানেও এ সংঘদলটি চেষ্টা চালিয়ে যাবে। দেশকে বাঁচাতেই সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কল-কারখানা-মিল চালু রাখা খুবই জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com