১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

কাগজ চোরাচালানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন

গডফাদারদের ধরুন

কাগজ চোরাচালানকারীদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন

চলছে বইমেলা। হাজার হাজার রিমের যখন দরকার সেই সময়টা হলো ফেব্রুয়ারি। এর আগে ছিলো জানুয়ারি মাস। প্রতিবছর জানুয়ারি মানে বর্ষ শুরু হিসেবে হাজার হাজার রিম কাগজের প্রয়োজন হয়। কারণ শিক্ষবর্ষ শুরুর সঙ্গে প্রয়োজন হয় কাগজের। কিন্তু এই মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত কাগজ নিয়ে চলে যতসব দুর্নীতি।

রাজধানীর নয়াবাজারে কাগজ চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এ অভিযানে তারা প্রায় ১০০ টন অবৈধ বন্ডেড কাগজ আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। চোরাচালানকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অভিযান ঠেকাতে তাদের গডফাদারের নির্দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তারা কাগজ মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেন। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় দিনভর অভিযান চালায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। মাত্র তিনটি গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ টন বিভিন্ন ধরনের অবৈধ বন্ডেড কাগজের মূল্য প্রায় সোয়া কোটি টাকা।

এসব অবৈধ বন্ডেড পণ্যের ব্যবসার উৎস, মাধ্যম, গন্তব্য ও জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নয়াবাজারের বন্ড গডফাদার জনৈক ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন এক ডজন চোরাচালানকারীর দৌরাত্ম্যে কাগজশিল্প খাত রীতিমতো ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। তারা বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত পণ্যের বাধাহীন বাজার গড়ে তুলছেন। তাদের চৌর্যবৃত্তি দেশীয় কাগজশিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘবদ্ধ ওই চক্র এতই প্রতাপশালী যে, তাদের কাছে সরকারের দায়িত্বশীল মহলও জিম্মি হয়ে পড়েছে।

চোরাচালানকারীদের গডফাদার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিস্তার পাচ্ছেন না কেউ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের পর্যন্ত সরিয়ে দিচ্ছেন তারা। ফলে এ চক্রকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই রাঘব-বোয়ালদের চোরাচালান সম্পর্কে পুলিশের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতার পর অব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দেশে কাগজশিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। দেশের প্রয়োজন মিটিয়েও বিপুল পরিমাণ কাগজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশে সব ধরনের কাগজ উৎপাদিত হলেও রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পের প্রয়োজনে সরকার বন্ড সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনাশুল্কে কাগজ বা কাগজপণ্য আমদানির সুযোগ দিচ্ছে। এ কাগজের এক বড় অংশ অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে খোলাবাজারে। এর ফলে একদিকে সরকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে বিকাশমান কাগজশিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। দেশীয় শিল্পের স্বার্থে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলেই আমরা আশাবাদি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com