৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

কাদের খানের অবৈধ অস্ত্র-ভাণ্ডারের সন্ধানে পুলিশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ● এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আরও অনেক কিছুই লুকিয়েছেন একই আসনের সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান। এরইমধ্যে তার ভাড়াটে কিলার ও তার স্বীকারোক্তির মধ্যে বেশ কিছু গরমিলও পেয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। অস্ত্র ও গুলি নিয়েও তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি অনেক লুকোচুরি করেছেন। গাইবান্ধা পুলিশ এখন তার অস্ত্র ভাণ্ডারে আর কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, তারও  অনুসন্ধান চালাচ্ছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুন্দরগঞ্জের সাবেক এমপি আবদুল কাদের খান কিলারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে। প্রশিক্ষণে কাদের খানের বৈধ-অবৈধ সব অস্ত্রই ব্যবহার করা হতো বলে কিলার রাশেদুল ইসলাম মেহেদী, শাহীন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম রানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে। কিন্তু কিলারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অবৈধ অস্ত্র ও এমপি লিটন হত্যায় তার বৈধ অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়ে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কোনও তথ্য দেননি কাদের খান। বিচার শুরুর পর আইনি সুবিধা নিতেই তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে গ্রেফতারের পর কাদের খানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলেও দাবি করেছিলেন বলে  জানান তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, নানা কারণে কাদের খান হতাশায় ভুগছিলেন। সেই হতাশা থেকে তিনি কয়েকবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিলেন বলে কাদের খান তাদের জানান। আবার এমপি হতে পারলে সেই হতাশা কেটে উঠবেন এমন মানসিকতা থেকেই এমপি লিটন হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার লোভে ঠাণ্ডা মাথায় লিটনকে হত্যা করিয়েছেন বলে মনে করেন তদন্তে সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, লিটন হত্যা মামলায় কাদেরকে গ্রেফতার করার আগে মেহেদী, শাহীন ও রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য ও জবানবন্দির পরই কাদের খানকে গ্রেফতার করা হয়। মেহেদী, শাহীন ও রানা জবানবন্দিতে জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে থেকে এমপি লিটনকে হত্যার জন্য তাদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন কাদের খান। হত্যার পর কিভাবে পালাতে হবে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাদের খান লিটনকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করলেও কিলারদের অস্ত্র চালাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কোনও তথ্য দেননি। গ্রেফতারের পরদিন কাদের খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি গুলিভর্তি পিস্তল তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তার আরও অবৈধ অস্ত্র রয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে বিভিন্নস্থানে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এমপি লিটন হত্যায় কিলাররা তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এরমধ্যে দু’টি অস্ত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে। বাকি অস্ত্রও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কাদের খানের অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডারের সন্ধানেও রয়েছেন তারা। আশা করছেন এ ব্যাপারেও তারা সফল হবেন। তিনি বলেন, ভাড়াটে কিলার ও কাদের খানের বক্তব্যে যেটাই থাকুক, এমপি লিটনকে হত্যা ও পরিকল্পনার বিষয়ে তাদের বক্তব্যে কোনও গরমিল নেই। বাকি বক্তব্য যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই চার্জশিট দিতে পারবেন বলেও আশাবাদী তারা। উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনকে।

patheo24/mr

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com