১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের সারাদেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

শুক্রবার বাদ জুমা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা সভাপতি অনারারী ক্যাপ্টেন (অবঃ) মোহাম্মদ ইব্রাহীম সাহেবের সভাপতিত্বে মিছিল

কাশ্মীরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের সারাদেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

পাথেয় রিপোর্ট : ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরীদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। প্রতিবাদে কোন কোন জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। কোথাও কোথাও বাধার সম্মুখীন হন জেলা নেতৃবৃন্দ। নওগাঁ জেলা মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত কাশ্মীরে ভয়াবহ আগ্রাসন চালাচ্ছে।

সংবিধানে ৭০ বছর যাবৎ বিদ্যমান ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত কাশ্মীরী জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। যে শর্তের ভিত্তিতে কাশ্মীরকে ভারতের সাথে একিভূত করা হয় সংবিধান থেকে সেই ধারা বাতিল মানেই চুক্তি লঙ্ঘন। আজকে পুরো কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে, ইন্টারন্টে, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে কাশ্মীরী জনগণের উপর ভয়াবহ জুলুম চালানো হচ্ছে। কাশ্মীরী মুসলমনাদের জীবন নিয়ে বিশ্ববাসী আজ গভীরভাবে শংকিত।

কাশ্মীরীদের অধিকার আদায় ও অবরুদ্ধ কাশ্মীরী জনগণকে রক্ষায় বিশ্বাসীকে সোচ্চার হতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাশ্মীরী জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই গোলযোগপূর্ণ কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু ভারত শক্তি প্রয়োগ করে কাশ্মীরীদের অধিকার খর্ব করতে যুগযুগ ধরে কাশ্মীরী মুসলমানদের উপর হত্যা, জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে আসছে। পুরো কাশ্মীর উপত্যাকা রক্তে রঞ্জিত। আবার নতুনভাবে কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসন কাশ্মীরী জনগণের অধিকারে উপর যেমন চরম আঘাত একই সাথে তা পুরো উপমহাদেশের স্থিতিশীলতার জন্যেও মারাত্মক হুমকি।

ইতিহাস বলে, কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী দিয়ে দমন-পীড়ন চালিয়ে কাশ্মীরী জনগণের ‘আজাদী’ আন্দোলনকে স্তিমিত করা যাবে না। ভারতের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত কাশ্মীরী জনগণের ‘আজাদী’ আন্দোলনকে আরো শাণিত করবে। কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসন ও রক্তপাত, গ্রেফতার, হত্যা, নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকা রাখাতে হবে।

যেসকল জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি একযোগে পালিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, মোমেনশাহী, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, বি-বাড়ীয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, কুমিল্লা জেলা ও মহানগর, দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ মৌলভী, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, পাবনা জেলায় পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বড়ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com