১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমের রক্তাত বিভাজন

কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমের রক্তাত বিভাজন

সগীর আহমদ চৌধুরী : ১৯৪৭: গণহত্যায় মুসলিম সংখ্যা ৬১% থেকে ৩৫%-এ নেমে আসে জম্মুতে! যখনই আপনি কাশ্মীর নিয়ে কথা বলতে যাবেন তখন হিন্দুত্ববাদীরা অনেকেই ‘কাশ্মীরী পণ্ডিতদের’ দেশান্তরী হওয়ার ইস্যুটা সামনে নিয়ে আসে। অর্থাৎ ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১ লক্ষ কাশ্মীরী হত্যা, ১০ হাজারের বেশি মা-বোনকে ধর্ষণ, অগণিত আহত, কয়েক হাজার গণকবর … সব জাস্টিফাই করতে ‘কাশ্মীরী পণ্ডিতদের’ বিষয়টা? এজ ইফ ১৯৮৯ সালের আগে কিছুই ঘটেনি।

প্রত্যেকটা ঘটনারই যে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা থাকে সেটা বোঝা জরুরি।

কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমের রক্তাত বিভাজনের শুরু ১৯৪৭ সাল থেকেই। জম্মু ও কাশ্মীর পাশাপাশি দুটো আলাদা এলাকা। কাশ্মীর মুসলিমপ্রধান, জম্মু হিন্দুপ্রধান। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসের আগে জম্মুও মুসলিমপ্রধান অঞ্চলই ছিলো। কিন্তু ওই এক মাসের মধ্যেই গণহত্যা চালিয়ে জম্মুকে হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে পরিণত করা হয়।

১৯৪৮ সালের লন্ডনের ১০ আগস্ট টাইমস পত্রিকায় এ গণহত্যা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লেখা হয়, যারা সীমানা দিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল তাঁরা ব্যাতীত ২ লক্ষ ৩৭ হাজার মুসলমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কাশ্মীরে ব্রিটিশ নিয়োজিত রাজা হরি সিংয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং ডোগরা সেনাবাহিনীর দ্বারা। ডোগরা সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল আরএসএসের হিন্দু ও শিখ সন্ত্রাসীরা।

১৯৪৭ সালের অক্টোবরের এ গণহত্যার পাঁচদিন পরেই পাঠানরা কাশ্মীর আক্রমণ করে। নয়দিন পরেই হরি সিং শর্তসাপেক্ষে ভারতে যোগদান করে। এ গণহত্যার ফলে ৬১% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মুতে রাতারাতি মুসলমানরা ৩৫%-এ নেমে আসে। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি করতে গিয়ে দেখা যায়, জম্মুতে গ্রামের পর গ্রাম কোনো মানুষ নেই। ১২৩টি গ্রাম সম্পূর্ণ জনমানবহীন ছিলো। জম্মুর কাঠুয়া জেলার ৫০ শতাংশ মুসলিম গায়েব হয়ে গিয়েছিল।

(Saeed Naqvi,The killing fields of Jammu: How Muslims become a minority in the region, scroll.in, Jul 10, 2016) বিস্তারিত http://www.muldharabd.com/?p=1335

ভারতের বিখ্যাত সাংবাদিক সাইয়েদ নাকবী এ বিষয়ে একটি প্রামাণ্য বই লিখেন। সেই বই থেকে উপরোক্ত তথ্যগুলো সংগৃহীত হয়েছে। আগ্রহীরা চাইলে বইটির ই-বুক সংগ্রহ করতে পারেন নিচের লিংক থেকে।

Being the Other: the Muslim in India, Saeed Naqvi, Aleph Book Company, https://drive.google.com/open…
সৌজন্যে: মূলধারা বাংলাদেশ

লেখক : আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com