১৫ই জুলাই, ২০২০ ইং , ৩১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীর আরেকটি ফিলিস্তিনে পরিনত হতে যাচ্ছে : কাশ্মীরি মুসলিম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গত বছরের ৫ আগষ্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৫ নং অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়া হয়। তারপর সারা কাশ্মীর জুড়ে শুরু হয় গণবিক্ষোভ, সরকার বিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। ভারতীয় সরকার কর্তৃক কারফিউ জারি ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার ফলে দিনের পর দিন গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিল সমগ্র উপত্যকা। তারপর আসে ভারত – পাকিস্তান বাকযুদ্ধ, বিমান হামলা, পাইলট ফেরত পাঠানো ও কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘে ইমরান খানের ভাষন ইত্যাদি। বলতে গেলে তখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাশ্মীর ছিল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু।

সেই সময় ৩৫ নং অনুচ্ছেদ বাতিলকে কাশ্মীরিদের মত ভালো চোখে দেখেনি মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তখন তারা সতর্ক করে বলেছিল যে ৩৫ নং অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীরে জনত্বাত্তিক পরিবর্তন আনবে। তারা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এই অঞ্চলে অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার মাধ্যমে সংখ্যা গরিষ্ঠতা হ্রাস করবে।

বিশেষজ্ঞরা যে সতর্ক করেছিলেন তা নিয়ে আবার আলোচনা হত না যদি ভারতীয় আমলা নবীন কুমারের কাশ্মীরে আবাসন সনদের ছবি গণমাধ্যম ভাইরাল না হত।৩৫ নং অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে শুধুমাত্র কাশ্মীরের নাগরিকরা সেখানে স্থায়ী বসবাস করতে পারত। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী কাশ্মীরের জনসংখ্যা মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ যার ৬৮.৩১ শতাংশ মুসলমান। এই ১ কোটি ২৫ লক্ষ কাশ্মীরি ছাড়া অন্য রাজ্যের কেউই সেখানে ব্যবসা করা, স্থায়ী বসবাস ও জমি কিনতে পারত না।

বর্তমানে ভারত সরকার কাশ্মীরে জনত্বাত্তিক পরিবর্তনের জন্য নতুন আবাসন আইন হাতে নিয়েছে। সে আইনে বলা হয়েছে যে যারা কাশ্মীরে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছে এবং যারা কমপক্ষে ৭ বছর লেখাপড়া করেছে তারা আবাসন সনদ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে । ঐ আইনে আরও বলা হয়ছে যে ভারতীয় আমলা যারা ১০ বছর যাবৎ কাশ্মীরে বসবাস করে থাকে তারা ও তাদের সন্তানরা আবাসন সনদের আবেদন করতে পারবে। যদি তাদের সন্তান কাশ্মীরে বসবাস না করে থাকে তারপর ও তারা আবেদন করতে পারবে।

তারই ধারাবাহিকতায় ভারত সরকার ১৮ মে থেকে এপর্যন্ত প্রায় ২৫০০০ লোককে আবাসন সনদ দিয়েছে। আবাসন সনদের মাধ্যমে তারা সকল নাগরিক সুবিধা, স্থায়ী বসবাস ও জমি কিনতে পারবে। যা আগে শুধু কাশ্মীরিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

এভাবে জনত্বাত্তিক পরিবর্তনকে ভালো ভাবে দেখছে না কাশ্মীরিরা তারা কাশ্মীরকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের সাথে তুলনা করছে। বদর- উল – ইসলাম নামক এক কাশ্মীরি মুসলিম যুবক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল – জাজিরাকে বলেন, ‘কাশ্মীরের নাগরিক নয় এমন লোকদের আবাসন সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই শেষকে শুরু করেছে। আর কাশ্মীর আর একটি ফিলিস্তিনে পরিনত হতে যাচ্ছে৷’

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com