৩০শে মে, ২০২০ ইং , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সংবাদ শিরোনাম :

কৃষকের হতাশা দূর করতে হবে

মওসুমী ফলের বাজারজাত

কৃষকের হতাশা দূর করতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: কৃষক সোনা ফলায় বলেই দেশের অন্য পেশার মানুষেরা শান্তিতে খেয়ে বাঁচেন। কৃষকের পরিশ্রমকে সার্থক করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখা কঠিন। সবার আগে কৃষককে বাঁচাতে হবে। কৃষক দেশের মেরুদ-। মেরুদ- না থাকলে দেহের যেমন অন্য কোষের তেমন দরকার হয় না। নেতিয়ে পড়ে। তেমনি কৃষক না বাঁচলে মূলত দেশের সব উন্নয়নই অসার থেকে যাবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দেশের কৃষকের এখন মাথায় হাত।

করোনা ভাইরাসে শিল্প ও সেবা খাত ন্যুব্জ হয়ে পড়লেও কৃষি খাতে চলছে উৎপাদন প্রক্রিয়া। চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। সবজি উৎপাদনও আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। কিন্তু যাতায়াত ও বিপণন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। বিশেষত উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় সবজির দাম এতই কম যে, অনেক কৃষক তা কষ্ট করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে খেতে নষ্ট হওয়াকেই কম কষ্টের বলে মনে করছে। একই অবস্থা হতে চলেছে আম ও লিচু চাষিদের। দেশে এবার আম ও লিচুর ফলন আগের বছরগুলোর চেয়ে ভালো। কিন্তু করোনাভাইরাসজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আম ও লিচুর বাজারজাত নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছে চাষিরা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আম রপ্তানি হয়। এ বছর আম রপ্তানি প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে বাজারজাত করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা। এ বছর আমের সম্ভাব্য উৎপাদন হতে পারে ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন।

লিচুর উৎপাদন হতে পারে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টন। চলতি ১৫ মে থেকে সংগ্রহ করা হবে গুটি জাতের আম। এরপর গোপালভোগ, রানীপ্রসাদ, লক্ষণভোগ ও হিমসাগর। এ ছাড়া ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি ও আশ্বিনা নামবে জুন ও জুলাইয়ের প্রথম দিকে। কিন্তু এখনো ব্যবসায়ীরা ‘বাগান কিনতে’ যোগাযোগ শুরু করেননি কৃষকের সঙ্গে। লিচুর ক্ষেত্রে শঙ্কা আরও বেশি। সাত-আট দিন পরই লিচু সংগ্রহ করবেন উৎপাদনকারীরা। অথচ আড়ত থেকে এখনো বায়না পাননি তারা। আম ও লিচু উৎপাদনকারীরা কার কাছে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করবেন, সে হিসাব মেলাতে পারছেন না। ধান ও সবজির উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত।

আম ও লিচু উৎপাদন মার খেলে তাতে কৃষকের মন্দদশার ষোলকলা পূর্ণ হবে। এর আগে আনারস, পেয়ারা ও কলা চাষিরা হতাশায় ভুগেছেন উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতা না পেয়ে। দেশের সিংহভাগ মানুষ কৃষিকাজে সম্পৃক্ত। এ খাত মানুষকে খাদ্য জোগায়। আমরা মনে করি, করোনাকালে বেঁচে থাকার জন্য অন্তত কৃষি খাতকে জিইয়ে রাখতে হবে। অন্য সবসময়ের মতোই কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com