৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

কেন করোনা সবাইকে কাবু করতে পারে না; রহস্য উদঘাটন চিকিৎসকদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার। আশ্চর্য ক্ষমতাধর এই ভাইরাসের হাত থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তিত সবাই। এখনও আবিষ্কৃত হয়নি কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন বা টিকা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে করোনা সবাইকে সমানভাবে কাবু করতে পারে না। অনেকে দ্রুতই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কেন এমন হয়, এবার জানা গেল সেই অজানা রহস্য।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যারা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের সংক্রমণে আগে থেকেই আক্রান্ত ছিলেন তাদের সহজেই কাবু করে ফেলে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকায় করোনা তাদের দ্রুত পরাজিত করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

করোনায় মৃত্যুদের বেশিরভাগ আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন অথবা বয়সে প্রবীণ। এসব মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় করোনা সহজেই তাদের কাবু করতে পেরেছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার দোহার্টি ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করোনা রোগীর শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী ছিলেন। ৪৭ বছর বয়সী এক মহিলা গুরুতর অবস্থায় মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার জীবন সংশয়ে এমনটাই ধারণা করেছিলেন চিকিৎসকেরা। দ্রুত তার অনুমতিসহ রক্তের নমুনা এবং প্রতিদিনের অগ্রগতির বিশদ নোট গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসহ নেওয়া শুরু করেন গবেষকরা।

গবেষক দলের প্রধান ডা. ওন নুগেইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মাঝে বহু বছর ধরে যে ধরনের প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়াগুলি লক্ষ্য করেছি, প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছি এই রোগীর ওপরও একই ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে আমরা দেখেছি তার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে।

যদিও কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দেবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করবে এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ফ্লুর সঙ্গে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রতিরোধ ক্ষমতার অনেকটা মিল পেয়েছেন।

ডা. নুগেইন বলছিলেন, ‘রোগী ভর্তি হওয়ার তিন দিন পরে আমরা তার মাঝে বেশ কয়েকটি প্রতিরোধক কোষের বৃদ্ধি দেখতে পেয়েছিলাম। মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের আক্রান্তদের শরীর যেভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে এক্ষেত্রেও প্রায় অনুরুপ লক্ষণ দেখা গেছে। তাই আমরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম যে, রোগী তিন দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবে, বাস্তবেও তাই ঘটেছিল।’

রোগীর ইমিউন সিস্টেমে করোনা ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জার অনুরূপ হিসাবে কাজ করে। সাধারণ ফ্লুর মতো করে অ্যান্টিবডিগুলি ছেড়ে দেয়। ভর্তির সাত দিন পরে পরীক্ষায় দেখা যায় মহিলাটি কোভিড -১৯ পজেটিভ ছিল, তবে ১৩ দিন পরে দেখা যায় তিনি করোনা থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন এবং তার মাঝে করোনার কোন সংক্রমণ নেই। যদিও তার পরেও তার শরীরের অ্যান্টিবডিগুলির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘ন্যাচার মেডিসিনে’ প্রকাশিত হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে সেটা আনপাবলিস্ড করা হয়েছে। তবে একই উপসর্গের তীব্রতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও চারজন রোগীর উপর গবেষণায় একই রকম ফলাফল দেখা গেছে।

গবেষকরা এই ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এখন একটি ভ্যাকসিন তৈরি প্রক্রিয়া চালাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। অনেকেই সফলতার দ্বারপ্রান্তে আছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার দোহার্টি ইনস্টিটিউটের তৈরি ভ্যাকসিন যদি সবচেয়ে ভাল প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং করোনা ভাইরাসকে সহজেই নির্মূল করতে পারে তাহলে তাদের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তাদের এই গবেষণাটি চিকিৎসকদের এই ধারণা দেয় যে, রোগীদের মাঝে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি বৃদ্ধি করা যায় তাহলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে তাদের নিজেরাই সেরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণত এ জাতীয় গবেষণা কৌশল বিকাশ এবং নৈতিকতা ছাড়পত্র অর্জনে বেশ সময় লাগবে। তবে ইনস্টিটিউটটি বছরের পর বছর ধরে মহামারির প্রতিষেধক তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com