১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

কেশবপুরের মিষ্টি তেঁতুল গাছটি বিলুপ্তির পথে

আলম হোসেন ● যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতীর ৫শ’ বছর বয়সি বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি অযত্নে অবহেলায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। বহুবিধগুণের অধিকারী গাছটি এলাকায় অলৌকিক গাছ হিসেবে পরিচিত। অযত্নে অবহেলায় গাছটি  ৫ বছর আগে উপড়ে গিয়েও বেঁচে আছে।

কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মূলগ্রাম আটঘোরা সড়কের পাশে ২২ শতক খাস জমির ওপর  বিরল প্রজাতীর বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি অবস্থিত। গাছটির নামানুসারে সড়কটি নিলেমালা তেঁতুল তলা সড়ক নামে পরিচিত। অতীতে গাছটি আশপাশের প্রায় ২ বিঘা খাস জমি  ছিল। জমিগুলো  এখন প্রভাবশালীদের দখলে। বর্তমান গাছটি ৪ কাঠা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ গাছের তেঁতুল মিষ্টি। উপড়ে পড়ার  পরও গাছটি সজিব।

মূলগ্রামের বাসিন্দা আশোক বিশ্বাস জানান, প্রাচীন কাল থেকেই মূলগ্রাম, কোমরপোল, গৌরীপুর, খৈত্রপাড়াসহ দূর-দূরান্তের  হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ গাছের গোড়ায় মানত ও পূজা অর্চনা করে আসছে। প্রবাদ রয়েছে, এ গাছের ডাল কাটলে মানুষের ক্ষতি হয়। এমনকি লোকের মৃত্যুও হতে পারে। গত বছর ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা এ গাছের ডাল জ্বালানী হিসেবে নিয়ে যায়। কিন্তু রাতে স্বপ্ন দেখায় এ গাছের ডাল যে আগুনে পোড়াবে তার মৃত্যু হবে, তাই প্রাণের ভয়ে সেই কাঠ আবার রেখে আসে। এ গাছের ফল নিয়ে অনেকেই রোপণ করেছে, কিন্তু বাঁচে না। এ গাছে গভীর রাতে নাকি জ্বীনের আগমন ঘটে থাকে।

মূলগ্রামের শতবর্ষী আনার সরদার জানান, তিনি দাদার মুখে শুনেছেন ত্রিপুরাপুর খেয়াঘাট থেকে একটি নদী মূলগ্রামের ভেতর দিয়ে মধ্যকুল হয়ে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দিনে একবার পাল তোলা নৌকায় চড়ে মানুষ এ নদী দিয়ে চলাচল করতো। এ নদীর পাড়েই বন বিবির তেঁতুল গাছটি লাগানো ছিল। কালের আবর্তে বর্তমান সে নদীর কোনো অস্তিত্ব নেই। কে গাছটি লাগিয়েছিল তা তার দাদাও জানতেন না। তবে গাছটি ৫শ’ বছরের পুরনো হবে। এর নাম বন বিবির তেঁতুল গাছ হলো কেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো বা বনের মধ্যেই গাছটি জন্মে ছিল বলে এর নামকরণ করা হয় বন বিবির তেঁতুল গাছ।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন বলেন, গত বছর কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে এ গাছের গোড়াসহ চারপাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। যার কারণে গাছটি সজিবতা ফিরে পেয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতীর ৫‘শ বছর বয়সি এ বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি রক্ষাসহ অরক্ষিত ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব।

উপজেলা ফরেস্টার আলী আহমদ চৌধুরী বলেন, আমি  যোগদানের পর এলাকার জনগণ গাছটি সংরক্ষণের দাবি জানায়। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন আলী বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারসহ যাতে গাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com