২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

খালেদার দুর্নীতি মামলা স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদন

আদালত প্রতিবেদক ● বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। তিনি জানান, আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে শুনানী হবে।

গত মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের  হাইর্কোট বেঞ্চ রুলসহ মামলার স্থগতির আদেশ দেন। এর আগে গত বছর ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ক্ষেত্রে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। উক্ত মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামীর বিরুদ্ধে নাইকো দূর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানী  নাইকোর বিষয়ে চলা আরবিট্রশেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম  স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। কিন্ত গত ১৬ আগস্ট বিচারিক আদালত এ আবেদ খারিজ করে দেন।পরে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। দুদিনের  শুনানীতে গত ১ ডিসেম্বর আট সপ্তাহের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়। রুলে বিচারিক আদালতের ১৬ আগস্ট দেয়া আদেশ কেন অবৈধ হবে না-তা জানতে চেয়েছেন আদালত। মওদুদ আহমদের আবেদনে জারি করা রুলটি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

মাহবুব উদ্দীন খোকন জানান, একই যুক্তিতে বিচারিক আদালতে করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আবেদনও ১৫ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। পরে এর বিরুদ্ধে ২৭ ফেরুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া। এরপর গত মঙ্গলবার আদালত হাইকোর্টে মওদুদ আহমদের রুল নিষ্পত্তি  হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মামলার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সেইসাথে রুল জারি করেন। খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবো।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, সেনা নিয়ন্ত্রিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে (দুদক)। পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যাতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র দেখিয়ে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। মামলা হওয়ার পর খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই দুর্নীতির এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে দেয়া হয় রুল। প্রায় সাত বছর পরে গত বছরের শুরুতে রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। রুলের শুনানী শেষে ২০১৫ সালের ১৮ জুন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে বেগম জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্ণের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই অনুসারে গত বছরের ৩০ নভেম্বর জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমেদ ছাড়া এ মামলার বাকী আসামীরা হলেন- সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দীকি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক। বাপেক্স-এর সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূইয়া (সিলভার সেলিম) এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। আসামীদের মধ্যে মিয়া ময়নুল হক, কাশেম শরিফ ও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী পলাতক রয়েছেন।

patheo24/আবা/এম

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com