মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে স্কুল ভবন, গাছ তলায় পাঠদান

পাথেয় রিপোর্ট : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাস খানেক আগেও এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন দোতলা ভবনে ক্লাস করতো। নতুন ভবনের পাশের একতলা পুরনো ভবনটিতেও ছিল তাদের ক্লাস রুম। প্রশস্ত মাঠে ছিল খেলার সুযোগ। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে আসবাবপত্র, বেঞ্চ, টেবিল ও স্কুলের দুটি ভবনসহ খেলার মাঠটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। একই চিত্র গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আরও ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুরী আক্তার জানায়, স্কুলটি নদীতে বিলীন হওয়ায় লেখাপড়ায় মনোযোগ বসে না। একটি ছাপরা ঘরে কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে হয়। ফলে শব্দের কারণে লেখাপড়া করতে কষ্ট হয়। এছাড়াও রোদ বৃষ্টিতে গাছ তলায় পাঠ দান অনেক কষ্টের।

অবিভাবক রশিদুল ইসলাম জানান, রোদ বৃষ্টি আর খোলা আকাশের নিচে স্কুলের শিক্ষার্থীরা লেখাপাড়ার মনোযোগী হতে পারছে না । আগামী বার্ষিক পরীক্ষায় তাদের রেজাল্ট আশানুরুপ হবে না। তাই সরকারে শুভ দৃষ্টি একান্ত জরুরি।

কেতকীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিয়া খাতুন জানান, বিদ্যালয় ভবনের পাশে গাছতলা ও ছাপড়া ঘরে বসে ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস নিতে গিয়ে মন খারাপ হয়, কষ্টে চোখে জল আসে। সামনে সমাপণী পরীক্ষা। কোলাহলপূর্ণ খোলা জায়গায় বসে ক্লাস নিতে নানা সমস্যায় পড়েন শিক্ষকরা। রোদ-বৃষ্টিতে এই সংকট আরও বাড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুলের ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, এ বছর বন্যা ও নদী ভাঙনের ফলে বিদ্যালয় ধসে ও জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে মানবিকতা বিবেচনা করে সংশিষ্ট এলাকাগুলোতে কেউ আগ্রহী হয়ে জমি দান করলে স্কুল ভবন তৈরি সহজ হতো। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যহত আছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় গাইবান্ধায় ২২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০৮টিতে ক্লাস শুরু হয়। আর ১২টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পাঁচটি, ফুলছড়ি উপজেলায় পাঁচটি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে শিক্ষা খাতে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com