১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

গাজীপুরে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা মূল আসামি গ্রেফতার

গাজীপুর প্রতিনিধি ● গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ধর্ষণের বিচার না পাওয়ায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি ফারুককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব-১-এর উপ-পরিচালক মহিউল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মো. ফারুক (৩০) শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। বসত ঘর দখলের চেষ্টা এবং মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনার পর কর্ণপুর ভিটিপাড়া গ্রামের হযরত আলী ও তার আট বছরের মেয়ে আয়শা গত ২৯ এপ্রিল সকালে শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম বসত ঘর দখল ও মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শ্রীপুরের গোসিঙ্গা ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেনসহ সাত জনের বিরুদ্ধে কমলাপুর থানায় মামলা করেন। এ নিয়ে এ মামলায় মেম্বার আবুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো। র‌্যাব কর্মকর্তা মহিউল বলেন, ঘটনার পর ফারুক কাপাসিয়ায় পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে সেখানে র‌্যাব অভিযান চালালে আটরশি পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে সাভারের জাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ইসলামনগর এলাকায় এসে রড মিস্ত্রির সহকারীর (নির্মাণ শ্রমিকের) কাজ নেন। গোপন খবরে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ইসলামনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে আটক করা হয় বলে জানান তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমলাপুর রেলওয়ে থানার এসআই মো. আলী আকবর জানান, এর আগে গত শুক্রবার ভোর রাতে নেত্রকোণার থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি বোরহান উদ্দিন (৩৫) এবং ২৯ এপ্রিল শ্রীপুর থেকে মেম্বর আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিশু মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ায় শ্রীপুরে মেয়েকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন এক বাবা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন হজরত আলী মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে শ্রীপুর রেলগেট এলাকার এন এন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইনের পাশে পায়চারী করতে থাকেন। সকাল ৯টার দিকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকায় পৌঁছালে হজরত আলী প্রথমে তাঁর মেয়েকে চলন্ত ট্রেনের নিচে ছুড়ে ফেলে নিজেও ওই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনের নিচে কাঁটা পড়ে ঘটনাস্থলেই বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়। জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে দিনমজুর হজরত আলী শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর ছিটপাড়ার হালিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর হজরত স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকেন। অভাব-অনটনের সংসারের জোগান দিতে হালিমা ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। নিঃসন্তান এ দম্পতি আয়েশাকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করতেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ফারুক নামের এক বখাটে যুবক ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে আয়েশাকে ধর্ষণ করে। থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়া হলে ফারুক ও তার লোকজন হালিমা ও তার স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এ ঘটনার বিচারের দায়িত্ব নেন। কিন্তু কোনো মীমাংসা ছাড়াই তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এ ঘটনার পর এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় গরু চুরির অভিযোগ করেন হালিমা। এ ঘটনারও মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব নেন ওই ইউপি সদস্য আবুল হোসেন। কিন্তু তখনো তিনি কোনো সমাধান করেননি।

হজরত আলী এ ঘটনার বিচারের জন্য তাগাদা দিলে এতে দুর্বৃত্তরা হালিমা ও তাঁর স্বামীর ওপর আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে তারা মারধর করার জন্য দা-লাঠি নিয়ে ২৮ এপ্রিল গত শুক্রবার দিনভর হজরত আলীকে খোঁজাখুঁজি করে এবং হুমকি দেয়। এতে তাঁর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা হজরত আলীকে তাঁর বাড়িতে মারধর করে। একপর্যায়ে গরু চুরি ও শিশু মেয়ে ধর্ষণের ঘটনার বিচার না পেয়ে এবং প্রভাবশালীদের নানা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আতঙ্কিত হজরত আলী ক্ষোভে ও অভিমানে পরদিন শিশু মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com