২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৩০শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

গাম্বিয়ার মামলায় আইসিজের আদেশ প্রত্যাখ্যান করলো মিয়ানমার

গাম্বিয়ার মামলায় আইসিজের আদেশ প্রত্যাখ্যান করলো মিয়ানমার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে নিজেদের বিরুদ্ধ যাওয়ায় প্রত্যাখ্যান করেছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার। বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন রাখাইনে গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি। তবে সেখানে যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, যা তদন্ত করা হচ্ছে এবং মিয়ানমারের ফৌজাদারি বিচার ব্যবস্থায় এর বিচার হবে।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশান্তরী হয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গত বছর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া।

মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানায় দেশটি। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার অভিযোগ ছিল, দুই বছর আগে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন ভঙ্গ করেছে মিয়ানমার।

দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। তাতে গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্যদিকে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে গাম্বিয়ার করা আবেদনে আইসিজের ১৭ সদস্যের বিচারক প্যানেল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

আইসিজে গতকাল জানান, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সহিংসতা ও বৈষম্যের নীতিতে গণহত্যার উদ্দেশ্য থেকে থাকতে পারে। আদালত সেই বিবেচনা থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ও বৈষম্য অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বা কোনো পক্ষ এমন কিছু করতে পারবে না, যা গণহত্যা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। গণহত্যার অভিযোগের সমস্ত আলামত তাদের সংরক্ষণ করতে হবে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার লক্ষ্যে গতকাল আদালত মিয়ানমারের প্রতি চার দফা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেগুলো হচ্ছে: ১. গণহত্যা সনদের বিধি ২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে তার সীমানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জখম বা মানসিকভাবে আঘাত করা, পুরো জনগোষ্ঠী বা তার অংশবিশেষকে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের জন্মদান বন্ধের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত থাকতে হবে। ২. মিয়ানমারকে অবশ্যই তার সীমানার মধ্যে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট বা তাদের সমর্থনে অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে গণহত্যার জন্য উসকানি দেওয়া, গণহত্যার চেষ্টা করা বা গণহত্যার সহযোগী হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. গণহত্যা সনদের বিধি ২-এর আলোকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা এবং তার ধ্বংস সাধনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে। ৪. এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে হবে। এরপর থেকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অপূরণীয় বৈষম্য ও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জরুরি আবশ্যকতার বিষয়ে আদালত বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকার যে পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হোক না কেন, গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণে রাষ্ট্রটি বাধ্য।

গতকাল আইসিজের দেওয়া আদেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই আদেশ পরিস্থিতির বিকৃত চিত্র উপস্থাপন করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, তাদের গঠিত ইনডিপেনডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি (আইসিওই) রাখাইনে কোনো ধরনের গণহত্যার আলামত খুঁজে পায়নি।

তবে রাখাইনে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমারের তথাকথিত ‘স্বাধীন কমিশন’।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com