৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

ঘরে ঘরে ইবাদতের মধ্য দিয়ে শবে মেরাজ পালিত

ঘরে ঘরে ইবাদতের মধ্য দিয়ে শবে মেরাজ পালিত

মাসউদুল কাদির :: মসজিদে মসজিদে নামাজের পর বিশেষ দুয়া ও ঘরে ঘরে ইবাদত বেন্দেগীর মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে পবিত্র শবে মেরাজ। গতকাল রোববার রাতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিশেষ প্রার্থনায় দেশেজুড়ে পালিত হয়েছে পবিত্র শবে মেরাজ।

প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মিরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ওয়াজ মাহফিল বা আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। তবে নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত হয়েছে জাতীয় মসজিদসহ দেশের মসজিদগুলোতে। মসজিদগুলোতে বিশেষ দুআয় প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার ভয়াল থাবা থেকে বিশ্বের মানুষকে সুরক্ষার জন্যও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

ইতিহাসের এই দিন রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আরশে আজিমে যান। এ কারণেই হিজরি রজব মাসের ২৬ তারিখের রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে এই মহিমান্বিত মেরাজ রজনীতে শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম-এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিমে পৌঁছান ও আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করার পরম সৌভাগ্য অর্জন করেন।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষে ২৬ রজব দিবাগত রাতে সৃষ্টিজগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা সংঘটিত হয়।

আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ সিঁড়ি। আর ফার্সি ভাষায় এর অর্থ ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। পবিত্র কুরআনে মক্কা মোয়াজ্জমা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণকে পবিত্র ‘ইসরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি সূরা বানী ইসরাইলের প্রথম আয়াতে বিবৃত হয়েছে। পবিত্র হাদিসে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উপনীত হওয়া ও আরশে আজিমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহিমান্বিত ঘটনাকে মিরাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

একই সময়ে মিরাজে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতের সব কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। মিরাজ থেকে আল্লাহর রসুল উম্মতে মোহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে পৃথিবীতে আসেন। অন্য কোনো নবী এমন সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র এ রাতটি ‘শবে মিরাজ’ হিসেবে পালন করেছে। যদিও বিধিনিষেধ ছিলো করোনার কারণে তবু ধর্মপ্রাণ মানুষেরা নিজের ঘরে ঘরে বসেই শবে মেরাজ পালন করেছে বলে জানা গেছে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার, নফল নামাজ, মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও বাড়িতে মিলাদ এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার মাধ্যমে শবে মেরাজ পালন করেছে সাধারণ মুসল্লিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com