১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

চলতি বছরই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি 

বিশেষ সংবাদদাতা : দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চলতি বছরেই ফ্রি ট্রেড এগিমেন্ট (এফটিএ) অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এফটিএ হলে এটাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি। তিনদিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এফটিএ নিয়ে ঐকমত্য হবার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল ইসলাম। বৈঠকের পর দুই দেশের কূটনীতিবিদ ও সরকারি কর্তাদের ভিসাবিহীন যাতায়াতে একটি চুক্তি এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা ও তথ্য বিনিময়সহ ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সাতটিই ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে। দুই নেতার বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব ও প্রধানমন্ত্রী প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্র শহীদুল হক বলেছেন, শেখ হাসিনা ও মাইথ্রিপালা সিরিসেনা চলতি বছরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, তা দ্রুত শেষ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা একটা অসম্ভব ব্রেক থ্রু। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে কারও এফটিএ নেই। যদি ২০১৭ তে এফটিএ হয়, তাহলে এটাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের প্রথম এফটিএ। আমার মনে হয় এটা একটা বড় পলিটিক্যাল প্রোগ্রেস টুয়ার্ডস ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিটুইন দ্যা টু কান্ট্রিজ। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য বছরে ৮ কোটি ডলারের মত। মনে করা হচ্ছে এ চুক্তি হলে দু’দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে ।

এটা বাড়ানোর জন্যই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মধ্যে ২০১৩ থেকে আলোচনা চলছে।  শহীদুল হক বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যে এখন যেসব শুল্ক ও অশুল্ক বাধা রয়েছে, তা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে অপসারণ করা যাবে। তাতে বাংলাদেশের কতটা লাভবান হবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিউচুয়ালি লাভবান হবে। বাট বাংলাদেশ অনেক লাভবান হবে। বিশ্ব বাণিজ্য এখন এক ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  অনেক দেশকেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর কিছুটা নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথমবারের মত চুক্তি হলে বাংলাদেশে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে দক্ষতা বাড়াতে পারবে বলে মনে করেন এ আমলা। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে শনিবারের (আজ) মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। ৩৫ প্যারার এই যৌথ বিবৃতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাও হয়ে গেছে। এই প্রথম বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার একটি যৌথ বিবৃতি আসছে জানিয়ে শহীদুল বলেন, এর মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক একটি কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) পাচ্ছে। আগে সম্পর্কটা ভাসা ভাসা থাকত। হয়তো কোনো সময় কিছু একটা ইমপি¬মেন্টেশন হয়েছে, অনেকদিন পর আমরা ভুলে যেতাম কি হয়েছে। এই ১৪টা ইন্সট্রুমেন্ট ও জয়েন্ট স্টেইটমেন্টের মধ্য দিয়ে  দুই দেশের সম্পর্কের একটা স্ট্রাকচার হল। যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখাও আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় অতিথিকে স্বাগত জানান। শুক্রবার সকালে সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেটে শেখ হাসিনা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। প্রতিবেশী এই দুই দেশের নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। তারপর দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। শেষে করবীতে দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়। বৈঠকের এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক সফর হিসেবে বর্ণনা করেন। আমরা আশা করি, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নবযাত্রা হল। সিরিসেনার এই সফরে দুই দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে তার পররাষ্ট্র সচিবের মন্তব্য বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে ধানের ক্ষেত্রে গবেষণা হয়েছে এবং তার যে সুফলতা পৃথিবীর সর্বত্র সে সংবাদটা গেছে। শ্রীলঙ্কা এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের বীজ উৎপাদনে একটা বিপ্লব আনতে চায়। এছাড়া উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা বিষয়ে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ে বলে ওখানে তারা আরেকটু সুবিধা পাবেন। দুই দেশের কূটনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা ছাড়া যাতায়াতের জন্য চুক্তির বিষয়টিকেও একটি বড় অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com