৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

চলনবিল; নারী মাদক জুয়া নিয়ে চলছে প্রমোদ নৌ ভ্রমণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে খানিক মুক্ত বাতাস নিতে আর দম ফিরে পেতে নৌ ভ্রমণে অনেকেই যায় চলনবিলে। কিন্তু তাই বলে নৌকায় নারী মাদক আর জুয়া নিয়ে অশ্লীলতায় মেতে থাকা! এমন অভিযোগ উঠেছে পাবনার চলনবিল অংশে নৌকা ভ্রমণে আসা যুবকদের বিরুদ্ধ। তবে এর বাইরেও পরিবার-পরিজন নিয়ে আসেন অনেকে। তবে এসব কর্মকাণ্ড দেখে বিব্রত হন তাঁরা।

দিনভর এমনকি রাত অবধি চলছে এই অসামাজিক কাজ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন ভ্রমণকারীরা।

চলতি বর্ষা মৌসুমে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পিকনিক ও নৌকা ভ্রমণের নামে নর্তকীদের ভাড়া করে এনে অশ্লীল কার্যকলাপে মত্ত হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে নৌ ভ্রমণে আসা সাধারণ মানুষ। নৌকার মধ্যেই বসানো হয় জুয়া ও মাদকের আসর। অথই পানির মধ্যে নৌকায় চেপে এসব অপকর্ম হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেপরোয়াভাবে চলছে এসব কার্যক্রম।

সরেজমিনে চলনবিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশ থানা এলাকা থেকে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি সকাল থেকে বেড়িয়ে পড়ে নৌকা ভ্রমণে। সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার রান্না হয় নৌকাতেই। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নর্তকী ও অখ্যাত কণ্ঠশিল্পীদের ভাড়া করে আনা হয়। এরপর উচ্চৈঃস্বরে গান-বাজনার তালে তালে নৌকার মধ্যেই চলে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া ও মাদকের আসর।

লোকচক্ষুর আড়াল করতে নৌকাগুলোর বেশির ভাগ অংশ কৌশলে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখে নৌকার মালিকরা। আর এসব অপকর্মের হোতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক। এতে ছুটির দিনে বা অন্য কোনো দিনে চলনবিল এলাকায় ভ্রমণে আসা পর্যটক বা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে ঘুরতে আসা লোকজনকে নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেড়েই চলেছে এমন অপরাধ কর্মকাণ্ড এমন অভিযোগ চলনবিলে নৌকা ভ্রমণে আসা মানুষদের।

পাবনা শহর থেকে চলনবিলে ঘুরতে আসা আব্দুল জব্বার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, পরিবারের লোকজন নিয়ে চলনবিল দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বেশির ভাগ নৌকায় যেভাবে অশ্লীলতা চলছিল, তাতে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মোসতাক আহম্মেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলনবিলে চলে; অথচ পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কোথাও কোনো পুলিশের টহল দেখলাম না।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এমন ধরনের কোনো তথ্য বা অভিযোগ আমার কাছে নেই। এই প্রথম আপনার কাছে শুনলাম। তবে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যে আমি ও এসিল্যান্ড সাহেব কয়েক দিন আগে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। এ ছাড়া থানার ওসি সাহেবকে এ বিষয়ে নদী এলাকায় বিশেষ নজরদারির জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com