৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

চলে গেলেন সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান

চলে গেলেন সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চলে গেলেন বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান। বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান শনিবার রাজধানী শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজাদ রহমানে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন আজাদ রহমানের বোন মাসুমা মান্নান লীনা। তিনি জানান, শুক্রবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা চলছিল। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আজাদ রহমান। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

মা আশরাফা খাতুন, ২০১৪ সালের রমজান মাসে মারা যান। তাঁকে সমাহিত করা হয় ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে। মায়ের মৃত্যুর ছয় বছরের মাথায়, আরেক রমজান মাসে মারা গেলেন ছেলে বাংলাদেশের বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান। মায়ের কবরই হলো, তাঁর শেষ ঠিকানা। আজাদের ইচ্ছানুযায়ী মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়েছে তাঁকে। আজিমপুরে দাফনপ্রক্রিয়া শেষে বাসায় ফেরার পথে জানালেন বরেণ্য এই সংগীতজ্ঞের স্ত্রী ও সংগীতশিল্পী সেলিনা আজাদ।

সেলিনা আজাদ জানালেন, হাসপাতালের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রিনরোডের বাড়ির সামনে জানাজা শেষে আজিমপুর নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে নয়টায় তাঁকে মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ বহু গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন আজাদ রহমান। কোনোটির সুরকার তিনি, কোনোটির সংগীত পরিচালক।

আজাদ রহমানের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম। সেখান থেকেই তিনি বলেন, জীবনে তিনি যদি এক শ ছবির গানের সংগীত পরিচালনা করে থাকেন তাহলে ৯৬ ছবিতে আমি গান গেয়েছি। তিনি আমাকে কখনো ছেলে, কখনো ভাই বলতেন—তিনি আমার সত্যিকারের অভিভাবক। আমার মনে হয়েছে, আমি এতিম হয়ে গেছি।

আজাদ রহমান পরিচালিত বেশির ভাগ ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন খুরশিদ আলম। বরেণ্য এই সংগীত পরিচালকের সুর ও সংগীতে অসংখ্য গান গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীনও। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ এবং ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’ সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশবরেণ্য এই শিল্পী বলেন, ‘কলকাতা থেকে এসে আজাদ ভাই রেডিওতে কাজ শুরু করলেন। অনেকের সঙ্গে কাজ করলেও তাঁর কাজগুলো একেবারে অন্য রকম মনে হচ্ছিল, একদমই অন্য রকম। আমার বড় বোনসহ ফেরদৌসী রহমান আপারা যে ধরনের গান গাইতেন, তার চেয়ে একদমই আলাদা। একটা নিজস্বতা আছে। ক্ল্যাসিক্যালে যে তিনি পারদর্শী, তা তাঁর গান শুনে বোঝা যায়। তখন যে ধরনের গান চলত, তিনি মোটেও সে রকম গান বানাতেন না।’

বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে আজাদ রহমানের লেখা সংগীতবিষয়ক বই ‘বাংলা খেয়াল’। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘গোপন কথা’ নামের একটি সিনেমা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com