৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

চিকিৎসা সেবায় চালু হচ্ছে ডিজিটাল হেলথ আইডি কার্ড : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের চিকিৎসা সেবায় চালু হচ্ছে ডিজিটাল হেলথ আইডি কার্ড বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, চলতি বছরেই দেশের ৯ উপজেলার ১২ লাখ মানুষ ডিজিটাল হেলথ কার্ড বা স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র পাবেন।

রোববার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে হেলথ আউটকাম পরিমাপ এবং ইনডিভিজুয়াল হেলথ আইডি কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় করোনায় সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে জনসাধারণের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলাকে দায়ী করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ইদানীং লক্ষ্য করছি, করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। চলাফেরা একটু বেখেয়ালি হয়ে গেছে। মানুষ সেভাবে মাস্ক পরছে না। এমনকি সামাজিক দূরত্বও মানছে না। এতে করে সংক্রমণ ও মৃত্যু আবারও বাড়ছে।

দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই এখন পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে। মৃত্যুর হারও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তাগিদ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিভাগও এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউ শুরু হওয়া দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেভাবে বিপর্যস্ত হয়নি। সবাই মিলে এটি ধরে রাখতে হবে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে এটি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। এজন্য সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

চলতি বছরেই দেশের ৯ উপজেলার ১২ লাখ মানুষ ডিজিটাল হেলথ কার্ড বা স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র পাবেন উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ এই কার্ডের আওতায় আসবে। হেলথ কার্ডে রোগীর যেসব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, সে অনুযায়ী নানা পদক্ষেপ নিতে পারবে সরকার। স্বাস্থ্যসেবায় ‘ইনডিভিজুয়াল হেলথ আইডি কার্য’ তৈরি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের আইডি কার্ডের প্রচলন রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষ খুব সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

হেলথ আইডি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হেলথ আইডি কার্ডে একজন রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত থাকবে। কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক এসব তথ্য দেখতে পাবেন। কার্ডটি সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে রোগীর আগের সব তথ্য দেখে চিকিৎসক সহজে চিকিৎসা দিতে পারবেন। হেলথ কার্ড শুরুতে কমিউনিটি ক্লিনিকে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারাদেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৮১২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে ২৮ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে পেয়ে আসছে মানুষ। এবার কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথ কার্ড যুক্ত হলো। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের টুঙ্গিপাড়া. মিঠামইন, চকোরিয়াসহ ৯ উপজেলার ২৫৭ কমিউনিটি ক্লিনিকে ১২ লাখ মানুষ এই ডিজিটাল হেলথ কার্ড পাবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান, কমিউনিটি সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তৃতা করেন।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com