১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে

মাসউদুল কাদির ● আমরা অস্থির হয়ে গেলেও টানা চার দিনের অভিযান শেষে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানা সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খবর অবশ্যই স্বস্তির। এ অভিযানে নিহত হয়েছে এক নারীসহ চার জঙ্গি। গত শনিবার রাতে এ জঙ্গি আস্তানার অদূরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন ছয়জন। অর্থাৎ এ অভিযানকে কেন্দ্র করে চার দিনে মোট নিহতের সংখ্যা ১০। এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে চারজন নিহত হয়। রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলায় একজন, খিলগাঁওয়ে র‌্যাবের চেকপোস্টে একজন এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এক জঙ্গি নিহত হয়। হিসাব এখনই শেষ করার সময় আসেনি। বিস্ফারিত নেত্রে অনুসন্ধানি তৎপরতায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটনে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে- তা কোনো কিছু না ভেবেই বলা যায়।

দেশে সাম্প্রতিককালে জঙ্গিপনার ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ঘটনাগুলো নতুন করে জঙ্গিদের সক্রিয় হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঘটনার পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক অভিযানে জঙ্গিবাদ দমনে সাফল্য এসেছে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, জঙ্গিরা কৌশলগত কারণে এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিল এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর শৈথিল্যের সুযোগে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না তা ভাবা উচিত। এখানে-সেখানে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পাওয়ার পর এটা ধরে নেয়া যায়, এ ধরনের আস্তানা দেশে আরও রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এদের বড়ধরনের ঘাঁটি এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যেতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এগুলোর খোঁজ করতে হবে এবং চালাতে হবে অভিযান। একটা বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবশ্যই খেয়াল করা উচিত যে, কোনোভাবেই যেন নিরপরাধ মানুষ বিপদগ্রস্ত না হয়। নিরপরাধ মানুষ জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত হলে, এতে জঙ্গিরা হাসবে। থোড়াই কেয়ার করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।


ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও উপলব্ধি ছড়িয়ে দিতে হবে সমাজের সর্বত্র। এ ক্ষেত্রে সরকার আলেম সমাজ ও ইমামদের সহযোগিতা নিতে পারে।


সামরিক অভিযানই কেবল জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটনের আসল পথ যেন না হয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় অপব্যাখ্যারোধে দেশের বর্ষীয়ান আলেমদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও উপলব্ধি ছড়িয়ে দিতে হবে সমাজের সর্বত্র। এ ক্ষেত্রে সরকার আলেম সমাজ ও ইমামদের সহযোগিতা নিতে পারে। তরুণরা যাতে জঙ্গিবাদে ঝুঁকে না পড়ে সেজন্য অভিভাবকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। ঘরে ঘরে সন্তানদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হবে- তারা কোথায় যায়, কী করে, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করে এসব দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। তরুণদের জঙ্গিবাদে নিরুৎসাহিত করতে সরকারের তরফ থেকে একটি জাতীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করাও সময়ের দাবী। দেশে জঙ্গিবাদ বর্তমানে যে রূপ পরিগ্রহ করেছে তাতে এর বিরুদ্ধে সর্বমুখী লড়াই অব্যাহত রাখাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com